বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এবং সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত অভিযানে জব্দকৃত মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সকালে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সদর দপ্তরে মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, বিজিবিএম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, গত তিন বছরে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) ও সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মালিকবিহীন মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করে। এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংসের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “মাদক শুধু একটি অবৈধ দ্রব্য নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। এটি আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজের স্বপ্ন, মেধা ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজের জীবন নয়, তার পরিবার ও সমাজকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।”
তিনি আরও বলেন, অসাধু চক্র বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সীমান্ত ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অপতৎপরতা প্রতিরোধ করা বিজিবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সাহস, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার ফলেই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, “আজ যে মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হচ্ছে, তা শুধু অবৈধ পণ্যের ধ্বংস নয়; বরং সমাজকে বিষমুক্ত করার একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ। মাদক নির্মূলের এই সংগ্রাম শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়; এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে মাদকের বিরুদ্ধে স্থায়ী সফলতা নিশ্চিত করতে।”
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এবং সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) কর্তৃক কুমিল্লা, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ জেলার আংশিক সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে জব্দকৃত সর্বমোট ৫১,৮৩,৮৪,১২৫ (একান্ন কোটি তিরাশি লাখ চুরাশি হাজার একশ পঁচিশ) টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য, ঔষধ, ইনজেকশন, সিগারেট ও জর্দা ধ্বংস করা হয়।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।