বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে রোগীদের বিছানায়। বর্ষায় দুরবস্থা বেড়ে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনস্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। তাছাড়া ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়াতে ছাদের বৈদ্যুতিক পাখাগুলো খুলে নেয়া হয়েছে।
জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের আধুনিকায়ন এবং আধুনিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও চিকিৎসা উপকরণের সংকট লেগেই আছে। হাসপাতাল ভবনের সংস্কারসহ সমস্যা নিরসনে সেবাগ্রহীতারা দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছে। একটি মাত্র জেনারেটর পুরাতন হওয়া দীর্ঘদিন ধরে মেরামত করে সচল রাখা হয়েছে ।
.png)
পরিপূর্ণ যন্ত্রপাতির থাকা সত্ত্বেও গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) সংযুক্তি থাকার
অভাবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ১৪ বছরেও সিজারিয়ান সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসা উপকরণগুলো অব্যবহূত অবস্থায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, ১৯৭৪ সালের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩১ শয্যার হাসপাতাল ২০১০ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন ঘটেনি। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ৩১ শয্যার পুরনো ভবনে মহিলা রোগীদের জন্য নির্ধারিত। ভবনটি খুবই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। রোগী এবং চিকিৎসকের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নেই। আগত রোগী অপেক্ষা হাসপাতালের ইনডোরে বেডের সংকট। মেঝেয় বিছানা করে রোগীদের রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে। ২০ শয্যার নতুন ভবনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা আছে পুরুষ রোগীদের জন্য। এখানেও স্বাভাবিক পরিবেশ নাই। পরিচ্ছন্ন কর্মীর অভাবে হাসপাতাল নোংরা হয়ে আছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামো আধুনিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এবং চিকিৎসা উপকরণ সংকটসহ সার্বিক দুরবস্থার বিষয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা উত্থাপন করা হয়। সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়। সংবাদপত্রে হাসপাতালের দুরবস্থার বিষয়ে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে।
.png)
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাখাল বিশ্বাস জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছাড়াও ডাক্তার, নার্স এবং কর্মচারীদের আবাসিক ভবনগুলোও খুবই জরাজীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। পানি, বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা দুরবস্থায় স্টাফদের বসবাস করতে হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো. শওকত আলী জানান,জরাজীর্ণ পুরনো হাসপাতাল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। উভয় ভবনের পুনঃনির্মাণ কিংবা সংস্কার ব্যবস্থা জরুরি। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও
গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকা সত্ত্বেও তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম)
সংযুক্তি আছেন ।
.png)
অপারেশন কক্ষে জীবাণুমুক্তকরণ অটোগ্ল্যাব মেশিন নাই। যার কারণে অপারেশন চিকিৎসা হাসপাতালে চালু করা যায়নি। ডিজিটাল এক্সরে মেশিন না থাকায় রোগ নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে না । হাসপাতালে ১০ জন কনসালটেন্টের স্থলে মাত্র চারজন আছেন। তাও দু'জনকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন কাজ করতে হয়।
৯ জন মেডিক্যাল অফিসারের স্থলে আছেন মাত্র ৭ জন। তিনি জানান, হাসপাতালের আউটডোরে দৈনিক তিনশত থেকে চারশ' রোগী আসে। ইনডোরে সবসময় ৫৫ জনেরও বেশি রোগী থাকে। জরুরিভিত্তিতে হাসপাতাল ভবনের সংস্কার ব্যবস্থা না হলেও যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে।
ই-সময়/বি.এম.র.ই /এমআরএম