দেশের শেয়ারবাজারে আবারও বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে। টানা দুই কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গতকাল বুধবার এই দরপতন ঘটে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৭১ পয়েন্টেরও বেশি কমেছে। একই রকম পতন দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই), যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে নানা অনিয়ম ও কারসাজির ফলে বিনিয়োগকারীরা এমনিতেই আস্থাহীনতায় ভুগছেন। এর মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা যোগ হওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে।
লেনদেনের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৯৯টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৫২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৩০৬টির কমেছে, এবং ৪১টির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল। এর ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৭১ পয়েন্ট কমে ৫,১৬৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এছাড়া, বাছাই করা শীর্ষ ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩১ পয়েন্ট কমে ১,৮৯২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১,১৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
শুধু সূচকের পতন নয়, ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর বাজারে মোট ৩২১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা কম। টাকার অঙ্কে শীর্ষ লেনদেনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল এনআরবি ব্যাংক, গ্রামীণফোন, টেকনো ড্রাগস, ব্ল্যাক ব্যাংক, ফারইস্ট নিটিং, মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ১৯৪টি কোম্পানির মধ্যে ৩৮টির দাম বেড়েছে, ১৩১টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। এতে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১২১ পয়েন্ট কমেছে। সিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।