দেশে এখন নির্বাচনের হাওয়া বইছে। একটি উৎসবমুখর ও আনন্দঘন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে সর্বত্র। রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়ন ও ইশতিহার তৈরির কাজে ব্যস্ত। অথচ নির্বাচনে না যাওয়ার গোঁ ধরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকরা মেতে উঠেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা (আইসিটি) সজীব ওয়াজেদকে নিয়ে গুজব ও অপপ্রচারে।
জয়কে নিয়ে গেল বেশ কিছুদিন ধরেই অন্তহীন গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে ওই মহল। শুধুমাত্র হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ছড়ানো গুজব কল্পনাকেও হার মানায়। ফেসবুক ইউটিউব তো রয়েছেই, গুজব রটনায় অগ্রগামী ছিলেন একটি টেলিভিশনের টক শো উপস্থাপকও।
আরও পড়ুন- মাইক্রো বাসে তুলে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগ
তবে পরিকল্পিত গুজব আর প্রোপাগাণ্ডাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে হরতাল-অবরোধ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত একদিকে যেমন আগুন সন্ত্রাস চালাচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিকমাধ্যমে তাদের গুজব সন্ত্রাসও থেমে নেই। অসত্য ও ভুল তথ্য দিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
‘ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়’, ২৪ অক্টোবর এমন শিরোনামে ভিডিও প্রকাশ করা হয় একটি ফেসবুক পেজ থেকে। এটি প্রচারিত হয় বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু পেজ ও প্রোফাইল থেকে। শুধু তাই নয়, চলতি বছর এমন আরও অনেক গুজব ছড়ানো হয়েছে জয়কে নিয়ে।
জয়ের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কড়া চিঠি। ভিসা নিষেধাজ্ঞায় সজীব ওয়াজেদ। সজীব ওয়াজেদের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য। শেখ হাসিনার সঙ্গে সজীব ওয়াজেদের ঝগড়া। মা শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না সজীব ওয়াজেদ জয়ের। যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালিয়েছেন জয়। যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ওমানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে সজীব ওয়াজেদ। সজীব ওয়াজেদের হাজার কোটি টাকা জব্দ করেছে মার্কিন ট্রেজারারি বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্র খুঁজছে সজীব ওয়াজেদ জয়কে। যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়েছেন জয়।
এমন অসংখ্য গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ও কারণ ছাড়াই ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে এমন সব অদ্ভুত ভিডিও।
কল্পনাকে হার মানানো এসব ভিডিও ছড়ানো হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু পেজ ও প্রোফাইল থেকে। সে সব পেজ, ইউটিউব চ্যানেল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বেশিরভাগই বিএনপি জামায়াতপন্থি মানুষের পরিচালিত। কেউ নানা অপকর্ম করে, কেউ বা স্বেচ্ছায় অবস্থান করছেন ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে।
নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীপক্ষ যুৎসই আন্দোলন না গড়তে পেরে বারেবারে ছড়িয়েছেন নানা গুজব। এসব কাজে গণমাধ্যমকর্মীদেরও নাম উঠে এসেছে। এছাড়া বিরোধী রাজনীতিবিদরাও গুজবের আগুনে ঢেলেছেন পেট্রোল।

অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো উপস্থাপক জিল্লুর রহমান ছড়িয়েছেন পরিকল্পিত গুজব। গুজব ছড়ানোর তালিকায় আছেন একাদশ সংসদ থেকে পদত্যাগ করা বিএনপির এক নারী সংসদ সদস্যও।
সত্য-মিথ্যা যাচাই না গুজব ছড়িয়েছেন এক সময়ের ডাক সাইটে ছাত্রনেতা বর্তমানে একটি দলের নেতৃত্বে থাকা মাহমুদুর রহমান মান্নাও।
এদিকে শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) রাতে বাংলাভিশন টেলিভিশনের সংবাদ বিভাগের সাবেক প্রধান মোস্তফা ফিরোজ জয়কে নিয়ে ইউটিউবে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ‘ঢাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়, রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ চাঞ্চল্য’ শিরোনামের ভিডিওটি ‘ভয়েস বাংলা’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে পোস্ট করেন তিনি।
সেখানে তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন থেকে সজীব ওয়াজেদ জয়কে কেন তার মায়ের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে না, তা নিয়ে নানা রকম গুজব, জল্পনা, কল্পনা ও আলোচনা চলছে। কেন তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে নেই, কেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, গত কয়েকদিন থেকেই এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন- আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনলেন সাকিব
বিএনপিপন্থি এই সাংবাদিক বলেন, মাঝেমধ্যেই রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়েও ফেসবুকে পোস্ট করে এসেছেন জয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তার সশরীরের উপস্থিতি দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন আঠারো দিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে ছিলেন, তখন তাকে দেখা যায়নি।
মাসখানেক আগে জয়কে নিয়ে তিনি আরও একটি ভিডিও বানিয়েছিলেন। যার শিরোনাম ছিল ‘সজীব ওয়াজেদ জয় কোথায় আছেন? নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে এমপি আরাফাত যা জানলেন’।
যখন জয়কে নিয়ে গুজবের ছোট্ট গাছ বটবৃক্ষের আকার ধারণ করে, তখন ২৯ সেপ্টেম্বর একটা ছবি দিয়েই দাঁতভাঙা জবাব তিনি। মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে ফেসবুকে ওই ছবি পোস্ট করেছিলেন জয়। ছবিটিতে দেখা যায়, স্বজনদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের গলফ ক্লাবে উপস্থিত হয়েছেন জয়।
ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘ভার্জিনিয়ায় আমার গলফ ক্লাবে পরিবারের সঙ্গে মায়ের জন্মদিনের ডিনার।’
সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত নানা গুজবের জবাবে ২৮ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, বিএনপি-জামায়াতি গুজববাজ গোষ্ঠী গত বেশ কিছুদিন ধরে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে একটি গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। তারা বলছে সজীব ওয়াজেদ জয় নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নেই, কারণ তাকে সেখানে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
‘এদের নিম্নমানের রুচি এবং মিথ্যাচারের কোনো সীমা নেই। এদের রাজনীতি ঘুরপাক খায় নোংরামি, রুচিহীনতা এবং মিথ্যাচারের আবর্তে। সজীব ওয়াজেদ জয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন। গত বছর আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলাম তখন তার সঙ্গে আমার দেখাও হয়েছিল। তিন মাস আগেও সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই’, যোগ করেন তিনি।
তখন তিনি এও বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান শেষে ওয়াশিংটন ডিসির অদূরে ভার্জিনিয়া স্টেটে জয়ের বাসায় অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। নিজের বাসায় মায়ের জন্মদিন পালন করেন জয়।
মায়ের জন্মদিনে ছবি পোস্ট করার মাধ্যমে গুজববাজদের জয় কড়া জবাব দিয়েছেন বলে মনে করেন সিআরআইয়ের সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ।
তিনি বলেন, মার্কিন ভিসা নীতি আরোপের ঘোষণার পর বিগত মাসগুলোতে নিয়মিত জয় ভাইকে নিয়ে গুজব শুরু হয়। তার ভিসা বাতিল হয়ে গেছে, পালিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন। কতশত পোস্ট এবং আওয়ামী লীগের পেজ এবং বিভিন্ন মানুষকে ইনবক্স ও মেসেজ করে এই প্রোপাগান্ডা ও গুজব ছড়িয়েছে তারা।
তাদের সেই সব গুজবের উত্তর দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র একটি ছবির মাধ্যমে। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াতে একটি গলফ ক্লাবে তোলা। এখন এই বিএনপির গুজব সেলের কর্মীরা চাইলে ফ্যাক্ট চেকার দিয়ে ছবিটি যাচাই-বাছাইও করে নিতে পারে। কিন্তু তারা যে গত সপ্তাহেও বললো, সজীব ওয়াজেদ জয় পালিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে, তা কীভাবে প্রমাণ করবে?
তন্ময় আহমেদের মতোই নেটিজেনদের অনেকেই প্রশ্ন করছেন গুজব ও ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে প্রকাশিত এসব ভিডিও নিয়ে।
এদিকে শনিবার (১৮ নভেম্বর) মানবিক কাজের মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশের সেরা ১২ যুব সংগঠনকে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২৩’ তুলে দিয়েছেন জয়। সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে দেশের ৭৫০টিরও বেশি সংগঠনের মধ্য থেকে ছয় ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেয়ার আয়োজক আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সিআরআই’র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘ইয়াং বাংলা’।
আরও পড়ুন- প্রথম দিনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনলেন ১০৬৪ জন
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্রধানও সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, আগামী দশ থেকে পনেরো বছর পরে দেশে বিএনপি-জামায়াত নামে কোনো দল থাকবে না।
আর এরমধ্যে দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন কোনো দেশের পুলিশ তাকে খুঁজছে না, কোনো দেশের জেলেও তিনি আটকে নেই বা কোনো দেশ তাকে রাজনৈতিক আশ্রয়ও দেয়নি।
ইসময়/একে/এমআরএম