দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় প্রেমিককে আটকে রেখে প্রেমিকাকে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ।ধর্ষনকারী ক্ষমতাশীন দলের নেতার ছেলে হওয়ায় মামলার এজাহার থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযাগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তেলীপুকুর এলাকায় নির্মানাধীন একটি ভবনে এই ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের পরে তরুণীকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মানাধীন ভবনএর দোতালা থেকে ধানখেতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় ধর্ষণকারীরা। জরুরী সেবা ৯৯৯ এ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রেমিকসহ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ।
আরও পড়ুন - দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ৭ই জানুয়ারি
দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী জানান, পঞ্চগড় সদর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার সকালে তার প্রেমিক পঞ্চগড় থেকে চিরিরবন্দরে তাদের বাসায় এসে মা-বাবার কাছে বিয়ের কথা জানান। কিন্তু পরিবার রাজি না হওয়ায় তিনি প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে চিরিরবন্দর রেলস্টেশনে আসেন।
পঞ্চগড়ে যাওয়ার কোনো ট্রেন না পেয়ে উপজেলার ঘুঘরাতলী এলাকায় বটগাছের নিচে বসে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। স্টেশন থেকে দুটি ছেলে তাদের অনুসরণ করে সেখানে আসেন। ওই দুজনের একজন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িচালকের ছোট ভাই মোবিন। ঘুঘরাতলীতে রাত ১০টার দিকে মোবিনসহ দুজন তাদের গন্তব্যের কথা জানতে চান।
তাদের সঙ্গে যোগ হয় মাস্ক পরা আরও তিনজন। সব শুনে মোবিন তাদের বলেন, 'তোমরা পালিয়ে যাচ্ছো কেন? তোমরা যদি বিয়ে করো, আমরা তোমাদের বিয়ে দেব। এখানে আমাদের সভাপতির ছেলে আছে, আমরা বিষয়টা উনাকে জানাইছি। তোমরা চলো আমাদের সাথে।' এই প্রস্তাবে রাজি না হলে মারধর শুরু করেন তারা।
একপর্যায়ে তাদেরকে একটা ভ্যানে তুলে মুঠোফোন কেড়ে নেন ওই যুবকরা। এরপর তাদেরকে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যান। সেখানে প্রেমিককে অন্যত্র আটকে রেখে তাকে দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। এরপর তাকে নির্মানধীন ভবনের দোতালা থেকে ধান খেতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে চলে যান তারা। পরে তার প্রেমিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান এ ঘটনায় ধর্ষিতার বড় বোন সালমা আক্তার (৩২) বাদি হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে চিরিরবন্দর থানায় ৭/৯(৩)৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ( সংশোধিত ২০২০) অপহরন করিয়া ইচ্ছার বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষন সহ সহায়তা করার অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ।

মামলার এজাহার নামীয় আসামীরা হলেন মো: মুবিন (২৩) সে চিরিরবন্দর উপজেলার রেলওয়ে কলোনী (মাছ বাজার) এলাকার আনসার আলীর ছেলে । একই এলাকার সাব্বির হোসেন (২৭), আল আমিন ( ২৬) , রাবি ( ২৬) সহ অজ্ঞাত নামাদের আসামি করা হয়েছে।
ধর্ষিতা তরুণীর বড় বোন সালমা আক্তার বলেন , চিরিরবন্দর উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের নেতা আব্দুল আলিম সরকারের ছেলে নুর আলম ধর্ষনের নেতৃত্ব প্রদান করেছে। অথচ পুলিশ কৌশলে মুল ধর্ষন কারীর নাম এজাহারে উল্লেখ করে নাই। পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা আলিম সরকারের ছেলে নুর আলমের নাম যেন সাংবাদিকদের নিকট না বলি সেই জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
ধর্ষিতার মা উম্মে হানী বলেন , আমার এই ছোট্ট সংসারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় আমার মেয়ে কিভাবে সমাজে মুখ দেখাবে। আমি এর সঠিক বিচার চাই । বিচার না পেলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া কিছু করার থাকবেনা ।
দিনাজপুর মহিলা পরিষদের নেত্রী ফারজানা আক্তার বলেন এই দলবদ্ধ ধর্ষনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধর্ষকের কঠোর শাস্তি দাবি করছি । ধর্ষনকারী যতই ক্ষমতাসীন হোক না কেন ? এর সঠিক ন্যায় সঙ্গত বিচার না হলে নারী সমাজ কঠোর আন্দোলনে যাবে ।
আরও পড়ুন- সংলাপের সুযোগ আর নেই - ওবায়দুল কাদের
ধর্ষণের শিকার তরুণী বলেন আমার স্বপ্নকে ধংস করে দিয়েছে । গত দুই দিন আগেও ছোট্ট একটি ঘর বাধার স্বপ্ন দেখছিলাম । আজ সেই স্বপ্ন দু:স্বপ্নে পরিনত হয়েছে । আলিম সরকারের ছেলে নুর আলম আমার জীবনটাকে শেষ করে ফেলেছে। আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী মৃত্যুদণ্ড কামনা করছি ।
ইসময়/একে/এমআরএম