মোংলা বন্দরে পশুর নদীতে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ এমভি প্রিন্স অব ঘষিয়াখালী-১ উদ্ধার কাজ শুরু করেছে মালিকপক্ষ।
শনিবার (১৮ নভেম্বর) ভোর থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ ও কয়লা রাখার অন্য ‘এমভি মা-বুশরা’ নামের কার্গো জাহাজ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। জাহাজে থাকা মাস্টারসহ ১২ জন নাবিক নিরাপদে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মালিক পক্ষ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ডুবন্ত কার্গোটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন- পুকুরে ভাসছিল আদিবাসী যুবকের মরদেহ
ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজের মালিক মো. বশির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) রাতে মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়ায় অবস্থানরত বসুন্ধরা গ্রুপের কয়লা বোঝাই মার্শাল আইল্যান্ড পতাকাবাহী ‘এমভি দুবাই নাইট’ নামে একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে কার্গো জাহাজ এমভি প্রিন্স অব ঘষিয়াখালী-১ কয়লা বোঝাই করে। পরে জাহাজটি যশোরের নওয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরের দিকে বন্দর চ্যানেল দিয়ে যাওয়া সময় বন্দরের সিগনাল টাওয়ার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে কয়লা বোঝাই এ কার্গো। জাহাজ মাস্টার কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের বেগ ও পানির স্রোতের টানে ডুবো চরে আটকে তলা ফেটে যায়।
মুহূর্তেই ৮০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে কার্গোটি ডুবে যায়। সেই সময় জাহাজটিতে থাকা মাস্টারসহ ১২ নাবিক সাঁতরে কিনারে উঠে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান তারা।

নদীর ভাটায় জাহাজের সামনের ও পেছনের অংশ দেখা গেলেও ভরা জোয়ারের সময় ডুবে থাকছে বেশিরভাগ অংশই। জাহাজটি পশুর নদীর পূর্বপাড়ের সিগনাল টাওয়ার এলাকার চরে ডোবায় বন্দরের মূল চ্যানেল পুরোপুরি ঝুঁকি মুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে।
ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজের মালিক মো. বশির হোসেন বলেন, ‘কয়লাবোঝাই কার্গো ডুবির ১৬ ঘণ্টা পরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করার জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ ও কয়লা অপসারণের জন্য অন্য একটি কার্গো শ্রমিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। প্রথমে নৌযানে থাকা কয়লা অপসারণ করে অন্য একটি লাইটার উত্তোলন করা হবে।
ডুবন্ত কার্গো উদ্ধারের জন্য ‘এমভি ফারহা দিবা’ নামে একটি টাগবোট ও অপসারণ করা কয়লা রাখার জন্য ‘এমভি মা-বুশরা’ নামে অন্য একটি নৌযান ঘটনাস্থলে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষে দুপুরের দিকে দ্রুত অপসারণ কাজ শুরু হয়। ২-৩ দিনের মধ্যে কয়লা অপসারণসহ এমভি প্রিন্স অব ঘষিয়াখালী-১ জাহাজটি উদ্ধার করা হবে।
আরও পড়ুন-প্রেমিককে আটকে রেখে প্রেমিকাকে দল বেঁধে ধর্ষণ
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ সাসুদ্দিন জানান, জাহাজসহ পরিবহন করা কয়লার বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি দেখিয়ে মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়রির জন্য আবেদন করেছে মেসার্স পিরোজপুর নেভিগেশন কোম্পানির মালিক মো. বশির হোসেন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাহিন মজিদ জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবির টনা ঘটেছে। তবে কার্গোটি চ্যানেলের পূর্বপাড়ে ডোবার ফলে পণ্য বোঝাই দেশি-বিদেশি জাহাজ আসা-যাওয়ার মূল চ্যানেল নিরাপদে রয়েছে।
বন্দর থেকে কার্গো মালিকপক্ষকে লিখিত চিঠি না দিলেও কার্গোটি দ্রুত উত্তোলনের জন্য মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে। তাই স্বল্প সময়ের মধ্যেই মালিক পক্ষ কার্গোটি উত্তোলন শুরু করেছে। যদি প্রয়োজন হয় এ ব্যাপারে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সহায়তা করবে।
গত ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৮৫০ মেট্রিক টন কয়লা কিংকার (সিমেন্ট এর কাঁচামাল) নিয়ে এমভি আনমনা-২ নামে একটি লাইটার জাহাজ ডুবেছিল পশুর নদীর একই এলাকায়।
ইসময়/একে/এমআরএম