ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক খাতের শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে বিভিন্ন কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে ১৭টি মামলা করা হয়েছে। ওইসব মামলায় সোমবার (১৩ নভেম্বর) রাত পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারোয়ার আলম।
আরও পড়ুন- তফসিল নিয়ে বুধবার বৈঠকে বসবে ইসি
তিনি জানান, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ১৭ মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৭টি মামলার মধ্যে চারটি মামলায় মোট নামীয় আসামি আছে ৬১ জন, বাকিরা অজ্ঞাতনামা। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৪ হাজারের অধিক। তবে এসব আসামিরা অজ্ঞাত পোশাক শ্রমিক ও উস্কানিদাতারা।
এদিকে আগের রূপে ফিরেছে সাভার শিল্পাঞ্চল। দলে দলে কাজে যোগ দিয়ে কারখানায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পোশাক শ্রমিকরা।
সরেজমিনে সকাল ৮টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের ইউনিক, বাইপাইল, শিমুলতলা, জামগড়া, ছয়তলা, নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়- সব কারখানাতেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রবেশ করছেন শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাঠগড়া এলাকার ডুকাটি গার্মেন্টসের এক শ্রমিক জানান, তাদের কারখানায় কোনো আন্দোলন ছিল না। তবে শেষের দিকে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বসেছিলেন। বহিরাগতরা তাদের কারখানায় হামলা করেছিল।

পরে কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেন। তবে আজ কারখানা খুলে দেয়ার পর শ্রমিকরা উৎপাদন শুরু করেছে। কারখানায় কোনো ঝামেলা নাই। আগের মতই কাজ করছেন সবাই।
পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারোয়ার আলম আরও বলেন, গত ১১ নভেম্বর নিরাপত্তার স্বার্থে শিল্পাঞ্চল সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের ১৩০টি কারখানা বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেন কর্তৃপক্ষ; যা ২০০৬ সালের ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
তবে গত দুদিনে পর্যায়ক্রমে ১২৯টি কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। যদিও নাবানীট নামের একটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। সেটিও দ্রুত খুলে দেয়া হবে বলে আশা করছি।
আরও পড়ুন- নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়, মিডিয়া ট্রায়াল করছে পুলিশ
প্রসঙ্গত, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা দুই সপ্তাহ কাজ বন্ধ করে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করতে হয়েছে। চলমান অসন্তোষের মধ্যেই সাড়ে ১২ হাজার টাকা সর্বনিম্ন মজুরি ঘোষণা দেয় মজুরি বোর্ড।
এই সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতন প্রত্যাখ্যান করে আবারও আন্দোলনে যান শ্রমিকরা। এই আন্দোলনের মুখে শিল্পাঞ্চলের ১৩০ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আজ সকলে কারখানা খুলে দেন কর্তৃপক্ষ।
ইসময়/একে/এমআরএম