সব সময় সব খানে


সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> কালাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্ভোধন

>> মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ, আখক্ষেতে মিলল রক্তাক্ত মরদেহ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস ফাঁকির অভিযোগ, হাজিরা খাতায় নেই স্বাক্ষর

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

>> বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ গঠন: আহবায়ক এড.ইসমাইল ও সদস্য সচিব এড.পলাশ কান্তি নাগ

>> হাতিয়ায় ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

আপনি পড়ছেন : জীবনযাত্রা

তাবিজ ব্যবহার করা কি বৈধ?


তাসপিয়া তাবাসসুম, ডেস্ক রিপোর্ট

eshomoy.com || 2024-12-09
তাবিজ ব্যবহার করা কি বৈধ?


প্রশ্ন: আমি একজনের কাছ থেকে একটি তাবিজ নিয়েছি, যাতে পেরেক, সরিষার তেল এবং একটি কাগজে আরবি লেখা রয়েছে। এটি কি বৈধ?

উত্তর:
তাবিজে থাকা পেরেক, সরিষার তেল বা কাগজে লেখা আসল বিষয় নয়; এগুলো কেবল ব্যবহার-পদ্ধতির অংশ। তবে তাবিজ মূলত দুই ধরনের হতে পারে:
১. শিরকি তাবিজ: যা ইসলামের মূল আকিদার পরিপন্থী।
. জায়েজ তাবিজ: যা কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা হাদিসে বর্ণিত দোয়াভিত্তিক।

আপনার তাবিজটি কোন প্রকারের, তা নির্ভর করে এর উপাদান ও ব্যবহার পদ্ধতির ওপর। যদি বিষয়টি বোঝা কঠিন হয়, তাহলে কোনো অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিতে পারেন।

জায়েজ তাবিজের উদাহরণ

তাবিজে যদি কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, বা হাদিসে বর্ণিত দোয়া থাকে, তবে তা বৈধ। সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবিঈনদের যুগেও এমন বৈধ তাবিজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।

১. আমর ইবনে শুআইব (রা.) তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যদি কেউ ঘুমের মধ্যে ভয় পায়, তবে সে এই দোয়াটি পড়বে:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ।"

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) তাঁর সন্তানদের এ দোয়া শিখাতেন এবং ছোটদের গলায় তাবিজ হিসেবে ঝুলিয়ে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৯৫)

২. বিখ্যাত তাবিঈ সাঈদ ইবনে যুবাইর (রা.) নিজেও তাবিজ লিখে দিতেন। (মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা, হাদিস: ২৩৫১১)

৩. আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহ.), সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব (রহ.) এবং ইবন সিরিন (রহ.)-এর মতো প্রখ্যাত আলেমগণও কোরআনের আয়াত বা হাদিসভিত্তিক তাবিজ বৈধ মনে করতেন। (মাজমূ, ৯/৭৪)

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন,
"বিপদগ্রস্ত বা অসুস্থদের জন্য কোরআনের আয়াত লিখে দেওয়া এবং তা ধুয়ে পান করানো জায়েজ।" (ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া, ১৯/৬৪)

তাবিজ ব্যবহারের শর্ত:

১. তাবিজে শিরকি কথা বা অর্থহীন শব্দ থাকতে পারবে না।
২. তাবিজের ক্ষমতাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করা যাবে না। বরং এটি আল্লাহর হুকুমেই কার্যকর হয়—এই বিশ্বাস রাখতে হবে।
৩. বৈধ উদ্দেশ্যে কোরআনের আয়াত, দোয়া বা জিকিরসম্বলিত তাবিজ ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে শিরকি বা কুফরি কথাবার্তা, অনর্থক লেখা বা অর্থহীন শব্দে পূর্ণ তাবিজ কখনোই বৈধ নয়। (মুসলিম, হাদিস: ২২০০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৬৬৯৬)

সারমর্ম:
তাবিজ বৈধ হতে হলে তাতে কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা হাদিসে বর্ণিত দোয়া থাকতে হবে। শর্তগুলো মেনে তাবিজ ব্যবহার করলে তা জায়েজ, তবে শিরকি বা অবৈধ তাবিজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।