এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ায় শুষ্ক অবস্থা বিরাজ করায় আর্দ্রতা হারাবে মাটি। যা এশিয়ার শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ফলনে ব্যাঘাত ঘটাবে। এর ফলে ২০২৪ সালে এশিয়ায় চাল উৎপাদন কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে চাল উৎপাদন কমতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ ভারত ও দ্বিতীয় শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ থাইল্যান্ডে। পাশাপাশি খরার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান চাষে ব্যর্থ হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার কৃষকরা।
আরও পড়ুন- আড়াই গুণ বেড়েছে শিল্প মজুরি
চাল উৎপাদন কমার আশঙ্কার পাশপাশি খাদ্যপণ্যটির মজুতও কমে আসতে পারে নতুন বছরে। এতে বাজারে সরবরাহ স্বল্পতার ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী এবং বাজার বিশ্লেষকরা।

লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিলের বিশ্লেষক পিটার ক্লাব বলেন, খরার কারণে অনেক এলাকায় পানি সংকট দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে ফলনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
ভারত ও থাইল্যান্ড আগামীতে চাল রফতানি আরও কমিয়ে দিতে পারে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের শুষ্ক মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ায় জলাশয়গুলোর পানি কমে গেছে। এতে ২০২৪ সালের শুষ্ক মৌসুমে সেচ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত পানির অভাব দেখা দিতে পারে দেশটিতে।
আরও পড়ুন- জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের খেলাপি ঋণের তথ্য যাচাই করা হবে
এল নিনোর আবহাওয়ার কারণে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় চলতি বছর বিশ্বের প্রধান রফতানিকারক ও আমদানিকারক দেশগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে। যাতে এ বছর বিশ্বে চালের সরবরাহ ব্যবস্থা কঠোর হয়েছে। আগামী বছর এ সংকট আরও প্রকট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক চাল বাণিজ্যের সিংভাগের যোগান আসে এশিয়ার দেশগুলো থেকে। প্রধান রফতানি কেন্দ্রগুলোয় এ বছর চালের দাম ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। চলতি বছরের আগস্টে ভারত চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যটির দাম ১৫ বছরের রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
এল নিনোর প্রভাব উত্তর গোলার্ধে ২০২৪ সালের এপ্রিল-জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়ার পূর্বাভাসদাতারা। আর জাপানের আবহাওয়া ব্যুরো বলেছে, উত্তর গোলার্ধে এল নিনোর প্রভাব বাজায় থাকার আশঙ্কা ৮০ শতাংশ।
এদিকে চাল উৎপাদন ব্যহত ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকির আশঙ্কায় ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারত চাল রফতানির নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন- শোকজের জবাব দিলেন প্রতিমন্ত্রী পলক
ফিচ সলিউশনের শাখা বিএমআই বলেছে, ‘ভারতীয় চাল রফতানির অনুপস্থিতিতে বড় রফতানিকারকের স্থান নেবে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। তবে সরবরাহ স্বল্পতার কারণে উভয় দেশের বাজারে দাম থাকবে চড়া।
রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, ভারতের শীতকালীন ফসল ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে রোপণ করা হয় এবং মার্চের দিকে কাটা হয়। এ মৌসুমের ফলন এক-পঞ্চমাংশ থেকে প্রায় দুই কোটি টন কমে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
ইসময়/এনআই/এমআরএম