গত দুই সপ্তাহে দেশের বেশিরভাগ পণ্যের দাম কমেছে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পেঁয়াজের দামও কমবে।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
আরও পড়ুন- ৮ দিনে এলো ৫৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স
গত ৭ ডিসেম্বর অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিত্যপণ্যটির রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। এই নির্দেশনা ৮ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। যা কার্যকর থাকবে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
এ খবরের পরেই রাতারাতি লাফিয়ে প্রতি কেজি ২০০ টাকার ওপরে উঠে যায় পেঁয়াজের দাম। ৮ ডিসেম্বর সকালেও যে পেঁয়াজ ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়, সন্ধ্যা পেরুতেই তার দাম ২০০ ছাড়িয়ে যায়।
এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ জানান, গত দুই সপ্তাহে দেশের বাজারে বেশিরভাগ খাদ্যদ্রব্যের দাম কমেছে। গরুর মাংস আমার এলাকায় মাইকিং করে ৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেটি কয়েকদিন আগেও ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা ছিল। একই সঙ্গে শাক-সবজি ও অন্যান্য পণ্যের দামও কমেছে।
আরও পড়ুন- ভারত থেকে শিগগিরই আসছে ৫২ হাজার টন পেঁয়াজ
পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম যে লাফিয়ে বেড়েছে, সে বিষয়ে আমি একমত। এটি বাড়ার কোনো কারণ ছিল না। ভারত পেঁয়াজ মার্চ পর্যন্ত রফতানি বন্ধের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারেও দাম বেড়ে যাওয়া আমাদের সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীর অসৎ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছু নয়।
হঠাৎ করে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয় বলে মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বাজারে অভিযান শুরু করেছে। তারা জরিমানাও করেছে। এতে বাজারে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে আসলেও পুরোপুরি আসেনি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, যে কোনো কিছু হলেই দাম বাড়িয়ে দেয়ার যে মানসিকতা এটির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমেও যদি নিবন্ধন বা প্রতিবেদন হয় তাহলে সেটি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। তবে পেঁয়াজের দাম সহসা কমে যাবে। কারণ এক সপ্তাহের মধ্যে দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু করবে।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের একটা ট্রেন্ড আছে যে কোনো পণ্যের সংকট হচ্ছে এমন গুজব রটালেও আমরা সবাই গিয়ে এক কেজির জায়গায় পাঁচ কেজি কেনা শুরু করি। এতে করে ব্যবসায়ীরা আরও সুযোগ পায়। এটির ক্ষেত্রেও আমাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। তবে পেঁয়াজের দাম সহসা কমে যাবে এবং ভারত থেকেও পেঁয়াজ আসবে। সবমিলিয়ে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।

এদিকে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ভারত থেকে ৫২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরইমধ্যে ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠিয়েছে।
রোববার (১০ ডিসেম্বর) এ তথ্য সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়দার আলী।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানি করতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা ৫২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ যত দ্রুত সম্ভব দেশে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশে যৌক্তিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং করার জন্য সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মূলত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতীয় দূতাবাসে চিঠি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে হায়দার আলী বলেন, প্রাইভেট সেক্টরের ৫২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমাদানির এলসি খোলা আছে। সেগুলো যাতে ছাড়া হয় সে বিষয়ে তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই এসব পেঁয়াজ দেশে আসবে।
আরও পড়ুন-৮০ প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা
টিসিবির ১১ ডিসেম্বরের হালনাগাদ তথ্য বলছে, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৮০ টাকা দরে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। গতকাল প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা আজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।
ইসময়/একে/এমআরএম