সিরাজগঞ্জের শিয়ালকোল মেডিকেল কলেজ রোডে অবস্থিত দি লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার-এ এক নারী রোগীর স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর ছেলে মো. নাসির উদ্দিন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. ছকির উদ্দিনের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম (৩৮) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য শিয়ালকোল মেডিকেল কলেজের সামনে অবস্থিত দি লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. নূর নবীর পরামর্শে রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও এক্স-রে করা হয়।
দুপুর সাড়ে ১টার দিকে এক্স-রে কক্ষে প্রবেশের পর দায়িত্বরত কর্মীরা নুরুন্নাহার বেগমকে শরীরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার খুলে রাখতে বলেন। তিনি গহনাগুলো একটি টিস্যু পেপারে মুড়িয়ে এক্স-রে কক্ষের ভেতরে নির্ধারিত স্থানে রেখে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। তবে অসাবধানতাবশত গহনাগুলো সেখানেই রেখে বাইরে চলে যান।
কিছুক্ষণ পর গহনার কথা মনে পড়লে তিনি দ্রুত এক্স-রে কক্ষে ফিরে গেলেও সেখানে আর গহনাগুলো খুঁজে পাননি। এ বিষয়ে দায়িত্বরত কর্মচারীদের জানালে তারা সহযোগিতা না করে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
খবর পেয়ে নাসির উদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর অনুরোধ জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে কর্তৃপক্ষ 'আজ-কাল দেখানো হবে' বলে সময়ক্ষেপণ করে। পরে পুনরায় ফুটেজ দেখতে চাইলে তাদের সঙ্গে গালাগাল, দুর্ব্যবহার এবং লাঞ্ছিত করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে প্রকৃত ঘটনা ও গহনা চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। কিন্তু ফুটেজ দেখাতে অনীহা ও ব্যাকআপ সংরক্ষণ না করায় তাদের মধ্যে সন্দেহ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে দি লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, তারা আমাদের কাছে এসেছিলেন। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু গহনা পাওয়া যায়নি। সিসিটিভির ব্যাকআপ নয় দিনের বেশি সংরক্ষিত থাকে না। তাই এখন আর ফুটেজ দেখানো সম্ভব নয়।
তবে অভিযোগকারী পক্ষের প্রশ্ন, গহনা চুরির অভিযোগ পাওয়ার পরও কেন সিসিটিভির ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়নি। এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চুরি হওয়া গহনা উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।