রংপুরে কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে ওঠেনি। দালালদের হয়রানি আর অতিরিক্ত খাজনার কারণে অনেক ক্রেতা হাটমুখো হচ্ছেন না। তারা ঝামেলামুক্ত খামার থেকেই পছন্দের গরু কিনছেন ওজন স্কেলে মেপে। মাহিগঞ্জের দেওয়ানটুলির জমজম ক্যাটল ফার্মে এই পদ্ধতিতে প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে গরু। আগেই বুকিং দিয়ে রাখা হচ্ছে পশু, ঈদের এক-দুই দিন আগে তা সংগ্রহ করা হবে।
গরুর হাটগুলো জমাট না হওয়ার পেছনে মূল কারণ দালালদের উৎপাত, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং ইজারাদারদের অতিরিক্ত অর্থ আদায়। গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি হাটে গরুর আমদানি কম, দাম বেশি। খামারমুখী ক্রেতার সংখ্যা বাড়ায় হাটে বিক্রিও কমেছে। পশু ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে যেসব পাইকার ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে গরু কিনতে আসতেন, এবার তারা আসছেন না।
ধনতোলা থেকে গরু নিয়ে আসা হাসেম আলী জানান, আগ্রহী অনেকেই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে চলে যান। হাটে আসা ক্রেতারা বলছেন, দালালদের কারণে নিজেরা দরদাম করে গরু কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাস্তায় হাটের বাইরে থেকেই গরু কিনে নিচ্ছেন অনেকে।
লালবাগ হাটেও একই অবস্থা। গরু কম, ক্রেতাও হাতেগোনা। ইজারাদাররা বলছেন, হাটে গরুর আমদানি কম এবং নগদ টাকার সংকটও রয়েছে মানুষের মধ্যে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর বিভাগে পশুর চাহিদা ১৩ লাখ ১৮ হাজার ১১৭টি, আর প্রস্তুত রয়েছে ২১ লাখ ৫২ হাজার ৩১৯টি। ফলে প্রায় ৮ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি হলেও স্বাস্থ্যসম্মত ও ঝক্কিমুক্ত পশু কিনতে খামারেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা।
রংপুর ডেইরি ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু ঢুকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশীয় খামারিরা। তবে চাহিদা অনুযায়ী পশু সরবরাহে ঘাটতি হবে না। বিভাগের হাটগুলোতে মেডিকেল টিম কাজ করছে যেন অসুস্থ গরু বিক্রি না হয়।
জেএইচ/ইডি