নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বালুর পোর্ট থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ২১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে ৫ টায় নেত্রকোনা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে নারীর মরদেহ উদ্ধার এবং খুনের ঘটনায় জড়িতদের আটকসহ ঘটনার বিবরণ দেয় জেলা পুলিশ।
এর আগে, ২০ জুলাই রাতে ঐ নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর মরদেহ উদ্ধারের সাত ঘণ্টা পর তাদের আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন: বিরিশিরি ইউনিয়নের দাখিনাইল গ্রামের হযরত আলীর ছেলে ট্রাকচালক শাহ আলম ওরফে শামীম (২৮), একই গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ট্রাকচালক আলিম উদ্দিন (২৩) ও আলিম উদ্দিনের হেলপার কাপাসাটিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মাসুম ফকির (২০)।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ, সহকারী পুলিশ সুপার মামুদা শারমীন নেলী ও দুর্গাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম ব্রিফিং করেন।
এএসপি মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল জানান, নিহত নারী ১৮ তারিখ বাড়ি থকে বাজারের কথা বলে বের হন। ঐ দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার কথাও হয়। বৃষ্টির জন্য বাজারে অপরূপা জুয়েলার্সে বসে ছিলেন বলে মেয়েকে জানান তিনি। পরদিন, ১৯ জুলাই তার ফোন বন্ধ থাকে। এরপর বুধবার রাতে, ২০ জুলাই উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকার বাবুল মিয়ার ভাড়া করা বালুর পোর্টের শ্রমিক থাকার একটি টিনশেড ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট করে তার সঙ্গে থাকা আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ঘটনায় রাতেই দুজন ট্রাকচালক ও একজন হেলপারকে আটক করে পুলিশ।
পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, নারীর সঙ্গে সমঝোতায় তিনজনই ভাড়ায় নিয়ে আসে তাকে। এরপর পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিদের একজন লাথি মেরে চৌকির ওপর থেকে তাকে ফেলে দেয়। অন্য একজন গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে বুকের ওপর চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ঐ নারীর মা খোদেজা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তাদের জবানবন্দির জন্য দুর্গাপুর আমলি আদালতে সোপর্দ করেছে বলেও জানান তিনি।