সব সময় সব খানে


বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬

১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> সিরাজগঞ্জে আমবোঝাই ট্রাক খাদে, ব্যবসায়ী নিহত

>> তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

>> বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে আর ফেরা হলো না সিয়ামের

>> খাল খনন শেষে বিপুল পরিমাণে টাকা ফেরত দিয়ে প্রশংসা কড়িয়েছেন দুই ইউএনও

>> হাতীবান্ধায় ফিলিং স্টেশনে মিলছে না পেট্রোল-অকটেন, কর্তৃপক্ষের দাবি ‘সরবরাহ বন্ধ’

>> বকশীগঞ্জে ২০০ অসহায় পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ

>> সিরাজগঞ্জে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী গুরুতর আহত, ঢাকায় রেফার্ড

>> সিরাজগঞ্জে বাস চালককে জরিমানা করায় সড়ক অবরোধে বাজার স্টেশনে তীব্র যানজট

>> বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) অনুমতি ছাড়াই রায়গঞ্জে চলছে ‘মিনি পেট্রোল পাম্প

>> মাত্র এক হাজার টাকার বিরোধে যুবককে হত্যা মামলার মূল আসামি শাহীন গ্রেফতার

আপনি পড়ছেন : সাহিত্য

অপূর্ণ ছোঁয়া


ফেরদাউসী কুঈন

eshomoy.com || 2023-11-20 11:13:30
অপূর্ণ ছোঁয়া

অপূর্ণ ছোঁয়া
..............ফেরদাউসী কুঈন

সারা রাত রিমির চোখে ঘুম এলো না। রাতভর সীমান্ত এসে হানা দিয়েছে মনের বাড়িতে। কি আশ্চর্য! যে রিমির প্রতি রাতে তিন চার বোতল ফ্রিজ— ঠাণ্ডা পানি পায়ে না ঢাললে স্বস্তি পায় না, তার কিনা আজ কোনো কিছুতেই খেয়াল নেই। বিশাল রাত হামাগুড়ি দিয়ে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। এখনো তার ভাবনা জুড়ে আছে সীমান্ত। 

দু'বছর পর দেখা ওর সঙ্গে তাও পরোক্ষভাবে। এখান থেকে কতটুকুই বা দূরত্ব এ পথের। বড় জোর মিনিট দুয়ের পথ। অথচ কত যোজন যোজন দূরত্ব এ পথের। এ দূরত্ব পথের নয় এ দূরত্ব মনের, এ দূরত্ব সামাজিক ব্যবধানের। পথের দূরত্ব সহজেই ঘোচানো যায়। কিন্তু মনের দূরত্ব? অত সহজ নয়  ঘোঁচানো। ভূমিকম্পের মতোই সম্পর্কের ধ্বংস হয়েছে সীমান্তের সঙ্গে। এক সময় যা ছিল "চির বর্তমান" এখন তা অতীত। অতীতের ধ্বংস স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে, যা সোনালী আলোয় উদ্ভাসিত ছিল সেই মাদকতাময় অতীত ভুলে সীমান্ত নির্মাণ করেছে সুদৃশ্য জীবন প্রাসাদ। সেই সুরম্য প্রাসাদে আজ একটুকু ঠাঁই নেই রিমির।

স্বার্থপর সীমান্তের পাষাণ প্রাসাদে নতুন প্রজন্মের চিৎকারে ঘুম ভাঙে। ঘরময় ছড়িয়ে পড়ে নিষ্পাপ মুখের মধুর ধ্বনি। শিশু অনিকেতকে যখন রিমি বুকে জড়িয়ে ধরেছিল, তখন বার বার মনে হচ্ছিল এই অনিকেত ওর পরক্ষণেই হোঁচট খায় মন। না ও তো রিমির কেউনা। সব ভুল। কিন্তু এই অনিকেত তো ওর শরীর চিঁড়েই বেরুতে পারতো। দেয়ালে টাঙানো চিত্রা—সীমান্তের যুগল ছবি। রিমি সে দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে অসহায়ের মতো খুঁজছিলো নিজের প্রতিকৃতি। এই ঘটনাটুকু ঘটাকি খুব কঠিন ছিল? সীমান্ত, হ্যাঁ, সীমান্তের কিছু কুপমণ্ডুকতার কারণেই জয়ী হয়েছে ঠুনকো কতগুলো অন্ধ সংস্কার। পরাজয় হয়েছে প্রেমের মানবতার।


এসব করে সীমান্ত কি সুখকে ছুঁতে পেরেছে? ওকি সুখী? নাকি পালন করতে একটু ক্লান্তির প্রথা? কী অদ্ভুদ! একটি সময় ছিল। সীমান্তকে দেখেই রিমি এক্সরে মেশিনের মতো দেখে ফেলতো ওর ভেতর—বাহির। সীমান্তের পৃথিবীতে রিমিই ছিল জীবন সাজাবার শ্রেষ্ঠ অলংকার। পথ চলতে চলতে আচমকা সীমান্তের বাসায় আগুন্তুক হয়েছে রিমি। চিত্রার চোখে আশংকিত কৌতূহল, কে এই মেয়ে? কি সম্পর্ক সীমান্তের সঙ্গে? হাজারো জিজ্ঞাসা। রিমি বুকে চেপে রাখে জ্বলন্ত বারুদ। রূঢ় বাস্তবতার মাঝে দাঁড়িয়ে অতীতের ঢেউ খেলানো আবেগকে পারিপার্শ্বিক সুস্থতার প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় করে তুলতে হয়। সীমান্ত বাসায় পৌঁছার আগেই রিমি চলে আসে চাচার বাড়ি। রিমি বাসায় এসে চাচীর কাছে জানলো মাস ছয় হলো সীমান্ত ট্রান্সফার হয়ে এই মফস্বল কলেজে এসেছে। দর্শন পড়ায়। উঠেছে কলেজ কোয়ার্টারে স্ত্রী—পুত্র নিয়ে। ভদ্রলোক খুবই অমায়িক। তোর চাচার সাথে সখ্যতা থাকায় মাঝে মাঝে এ বাসায় আসে। 


— কিন্তু কেনরে রিমি? তুই কি ওনাকে চিনিস
—রিমি বললো, 
— সে কি কথা! আমি চিনবো কি করে? রনি আপুতো ওনাদের ওখানেই আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। ওনার বাবুটা খুব সুন্দর। হাত বাড়াতেই চলে এলো। 
— ও তাই বল্।
— চাচাতো বোনের বিয়েতে আসায়। নচেৎ দেখাই হতো না। জানাই হতো না সীমান্ত কিভাবে জেগে উঠেছে নতুন জীবন নিয়ে। সাতদিন হতে চলল, এখনো বাড়িতে লেগে আছে উৎসবের আমেজ। মেহমানে ভরপুর। রিমির অস্বস্তি লাগছিল। বুক ভরে একটু মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারলে বেশ হতো। রিমি চলে আসে বাড়ির নিভৃত স্থানে, শান বাঁধানো ঘাটে। দীঘির বুকে ভেসে আছে লাল পদ্দের ঝাঁক। চারপাশে সারিসারি নারকেল বীথি।

চিরল চিরল পাতাগুলো রোদের ছোঁয়া পেয়ে বরফে কুচির মতো চিকচিক করছে। মাঝে মাঝে সেই ঝিলিক এসে লাগে রিমির চোখে। দূরে, যত দূর চোখ যায় তুমুল বাতাস দোলা দিয়ে যায় সরষে ফুলের গাঁয়ে। হৃদয়কে আন্দোলিত করার, চঞ্চল করার মতো প্রকৃতির এতো আয়োজন রিমিকে স্পর্শ করে না। অতৃপ্ত মন হাহাকার করে ওঠে না পাওয়ার বেদনায়। অতলান্ত বেদনায় নীল হয়ে যায় মনের সবটুকু অংশ। দু'বছর ধরে তিল তিল করে যে ভয়ংকর শূন্যতার রাহুগ্রাস থেকে তুলে এনেছিল নিজকে। আজকের পর থেকে তা আবার দগদগে ক্ষত হয়ে ঠাঁই নিল পাঁজরের ভাঁজে। রিমি এখন একা! একাকীত্বের প্রচণ্ড অস্থিরতায় দম বন্ধ হয়ে আসে। অথচ নোনাজল ঝরে না। রিমির ফিরে পেতে ইচ্ছে করে ভালোবাসা মাখা সেই উন্মাতাল দিনগুলো...।


স্বামীবাগে পাশাপাশি বাসা ছিল। সীমান্ত থাকতো ওর ভাইয়ের সাথে। ওর ভাইপোর অন্ন প্রসন্নে প্রথম দেখা। সীমান্ত ছিল সংস্কৃতিমনা ও উদার। সেই সঙ্গে মেধাবী। রিমি পড়তো আইডিয়াল 'ল' কলেজে। দু'পরিবারেই সংস্কার মুক্ত ছিল বলে মেলামেশায় কোনো বাঁধা ছিল না। সীমান্ত ছিল অসম্ভব সুদর্শন। প্রথম দেখায় ছুঁয়ে দেখার মতো। অসম্ভব ভদ্র ছেলে ও। সীমান্তের ভাবী প্রায়ই রিমিকে নিয়ে ঘুরতে বেরুতো। সীমান্ত থাকতো মধ্যমনি। সীমান্ত নাট্যকর্মী হওয়ার সুবাদে বেইলী রোডে নাটক দেখা হতো প্রায়ই । তখন থেকেই সীমান্ত রিমির ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ভাবীর মৌন সম্মতি সম্পর্ক স্থাপনে আরো উৎসাহ জোগায়। একদিন সম্পর্কের সেই অস্পষ্টতা আলোতে এসে লুটিয়ে পড়ে। সেইদিন রিমির অনুষ্ঠান ছিল শিশু একাডেমীতে। রিমি অনুষ্ঠান শেষ করে গেইটের সামনে এসে দেখে সীমান্ত দাঁড়িয়ে সীমান্ত বলল, 

—বাসা থেকে পাঠিয়েছে। চল পৌঁছে দেই ।
—রিমি বলল,
—লাগবে না। আমি রিংকু—মুন্নিদের সাথে পৌঁছে যাবো । 
—আমি তোমাকে উঠতে বলেছি।
সীমান্তের কথায় যেন চুম্বক ছিল। রিমি আর শব্দ ব্যয় না করে উঠে বসে মোটরসাইকেলে। সীমান্ত সাঁ সাঁ করে ছুটে চলে।

যানজট এড়ানোর জন্য পলাশীর পথ ধরে এগিয়ে চলে। কোলাহলমুক্ত পথ ধরে ভেজা—বাতাসে লাইটপোস্টের নরম আলোয় এতে অসম্ভব ভালো লাগছিলো। প্রকৃতিতে তখনও শীতের শেষ ছোয়াটুকু লেগে আছে। সীমান্তের হাইস্পীডে ছুটে চলা, শীতের মিষ্টি ছোঁয়া, সীমান্তের গায়ের বুনোগন্ধ, প্রকৃতি ও পরিবেশের মিশেল সহযোগিতায় রিমির সব যেনো এলোমেলো হয়ে যায়। রিমির হাত সীমান্তের কাঁধ ছেঁড়ে চলে আসে গ্রীবায়, চুলে গলায়। ক্রমশ নীল গেঞ্জি ভেদ করে রিমির হাত ঠাঁই খোঁজে সীমান্তের বুকে। রিমির আঙুলগুলো সাঁতার কাটে সীমান্তের ফর্সা রোমষবুকে। ঘন আবেগে ডুবে থাকা আবেগগুলো চৈতন্যের অটলতা ভেঙে চুরমার করে দেয়। ন্যায়—অন্যায়ের হিসেব নেমে আসে শূন্যের কোঠায়।


— রিমি, তুমি একি করছো?
— কি করছি? 
— তুমি বোঝনা?
বা—রে, আমি যে শীতে ফ্রিজ হয়ে যাচ্ছি। 
— কিন্তু আমি যে চালাতে পারছি না।
— কেন?
—তুমি একটা ঘুমন্ত বাঘকে জাগিয়ে তুলছো, বুঝতে পারছ? আচমকা গতি শ্লো হয়ে যায়। সীমান্ত পেছন ফিরে দেখে রিমিকে। রিমির মনে হলো, সীমান্তের ঠোঁট কথা বলছে। চোখ কথা বলছে। আর তখনই মোবাইল বেজে ওঠে। ভাবীর ফোন। খুব দুঃশ্চিন্তায় আছে রিমির মা। শিগগির বাসায় ফেরার তলব। বাসায় এসে সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠতেই সীমান্ত থমকে দাঁড়ায়। 
—কি হলো সীমান্ত থামলে যে?

—একটু দাঁড়াও। আমি তোমার মুখে একটু হাত রাখি। রিমি মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়। সীমান্তের আঙুল হয়ে ওঠে সবুজ বৃক্ষের কচি ডাল। সীমান্তের আঙুলগুলো রিমির মুখের ডান পাশ আলতো ছুঁয়ে নেমে আসে।
মানুষ প্রেমে ওঠে না। প্রেমে পড়ে। রিমিরও মনে হতে থাকে ও যেন সীমান্তের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে। ভয়ংকর সেই অনুভূতি বড্ড বেপরোয়া করে দিয়েছিল রিমিকে। কিন্তু সব চাওয়ার কি পূর্ণতা দেয়া যায়, না দিতে আছে?


সেদিন রাতটি কেমন করে যে শেষ হলো— না ঘুম না সজাগ কিছু বুঝতে পারেনি রিমি। গা কাঁপুনি দিয়ে ঘন আবেগগুলো বারবার আলোড়িত করে। চঞ্চল করে দেহ মন। সবকিছু যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেলো। যা এতদিন নিছক দুষ্টুমি ছিল আজ তা বিশাল মহিরুহ হয়ে হৃদয়ের নরম জায়গাটিতে ঢং ঢং ঘণ্টা বাজাচ্ছে।


কুসুমিত ভোরের আলো দিগন্ত জুড়ে হেসে বেড়াচ্ছে। রিমি বিছানা ছেড়ে উঠে আসে ছাদে। একা একা পায়চারি করে । পেঁজা পেঁজা সাদা মেঘের দল তুলোর মতো উড়ে বেড়াচ্ছে। হয়তো স্বপ্নগুলোও এভাবে ছিঁড়ে যাবে। তাই বলে আগামীর হতাশায় আজকের এই সত্য উপলব্ধি থেকে উঠে আসবে? নাকি আসা যায়। এ যে, অস্তিত্ব ছুঁয়ে যাওয়া লাগামহীন বোধ। একটি উষ্ণ হাতের ছোঁয়া এসে লাগে রিমির কাঁধে। 
রিমি চমকে উঠে বরফের মতো গলতে থাকে। মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকে সীমান্তের চোখের গভীরে। হাতে রাখা এক টুকরো বিশাল ওজনের চিঠি ঢুকিয়ে দেয় সীমান্তের বুক পকেটে। সীমান্তের বুকে মাথা রেখে হতাশার সুর বেজে ওঠে কণ্ঠে।


সীমান্ত তুমি কি জান আমাদের হৃদয়ে যে গান বেজে চলছে তা কখনো পূর্ণতা পাবে না। আসলে আমরা নিজেদের যতটা উদার ভাবি ততটা উদার আমরা নই । আমরা বলি একটা, করি অন্য আর বিশ্বাস করি আরেকটা। তাই এখনো প্রথা, সংস্কারের যাঁতাকলে বলি হয় মানবিক বোধের। অপমানিত হয় মানবতার।


— তাই বলে কি হৃদয়ের আর্তনাদ পাথর চাপা দিয়ে রাখতে হবে?
— তা হয়তো হবে না। পাহাড়ি ঝর্ণা যখন প্রবল বেগে পাথরের বুকে আছড়ে পড়ে, তখন পাথরও নিঃশ্বেষ হয়।
—ঠিক আছে সীমান্ত দেখা যাবে, তুমি প্রথাকে ভালোবাস নাকি মানুষকে সময়ই প্রমাণ করবে কে তোমার কাছে বড়। 
তোমার কথা যে কিছুই বলছ না? তুমি কতটুকু উদার? 

—আমার পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা তোমাকে বোঝাতে পারবো না। এটুকু বলতে পারি, যখন বুঝব তোমার ভালোবাসার কাছে হেরে যাচ্ছি, তখন বালির বাঁধের মতো সব বাধার আবরণ ধসে যাবে। সব কিছুর ঊর্ধ্বে মানুষ, মানুষের মানবীয় সম্পর্ক বংশ, গোত্র, ধনী, গরিব, এসব তথাকথিত সেন্টিমেন্ট আমাদের মনুষ্যত্বের সুষম চিন্তাগুলোকে গিলে খেতে পারে না, কখনো না জান সীমান্ত, ভালোবাসার এতো শক্তি যে সেসব কিছু জয় করতে পারে। এসো আমরা ভালোবাসার কাছে নতি স্বীকার করি।

—রিমি, তুমি এতো ভালো কেন? এতো চমৎকার করে কথা বলো কি করে? তোমার দেখার চোখটা সুন্দর বলে। তুমি পাশে আছ বলে। 
— ও রিমি, ভুলেই গেছি। কাল রাতে বাসায় এসে শুনলাম মা খবর পাঠিয়েছেন। সবাইকে গ্রামের বাড়ি যেতে হবে। বিকেলেই রওনা দেবো ভাবছি। দু'তিন দিন থাকা হতে পারে। 
— সব ভুলে যাবো নাতো?

আমি কি পারবো ভুলে থাকতে? এতো সহজ তোমাকে ভোলা? দেখ আমি এসেই, এই মর্তে দাঁড়িয়ে স্বর্গের চাবিটি তুলে দেব তোমার হাতে। ভালোবাসতে বাসতে সব ফতুর করে দেব।

হ্যাঁ, সীমান্ত রিমিকে ঠিকই ফতুর করে দিয়েছিল। ওর চৈতন্যের সারা অংশে ঝমাঝম করে যে মাদল বাজতো তা তৈ তা থৈ ছন্দে, ছলাৎ ছলাৎ করে ঢেউ আছড়ে পরতো তা এক ফুঁৎকারে নিভে গেল, ভেঙে চূর্ণ—বিচূর্ণ হয়ে গেল রংধনু রঙে আঁকা সাত রঙের স্বপ্ন বোনা। কিছু দিনের মধ্যেই ওর ভাই এসে বাসা ছেড়ে চলে যায় অন্যত্র। সীমান্তের একখানা চিঠি ডাক পিয়ন ধরিয়ে দেয় রিমির হাতে। 
— রিমি, 
বলব না আমায় ক্ষমা কর। সে শক্তিটুকুও ঈশ্বর কেড়ে নিয়েছে নিষ্ঠুরভাবে। দিব্যি দিয়ে বলছি, আমি নিজেই নিজকে কখনো ক্ষমা করতে পারবো না। আমি চাই না, তোমাতে আমাতে দেখা হোক কখনো। আমাকে তুমি অভিসম্পাত দাও।

অভিসম্পাত দাও, যাতে আমি ধ্বংস হয়ে যাই। সময়ের কাছে পরাজিত হয়েছি আমি, প্রথার কাছে নয়। তুমি ছিলে, আছো থাকবে আমার চৈতন্যের শাখায় শাখায়, হৃদয়ের সম্রাজ্ঞী হয়ে। যে নীরব ঘাতক হয়ে আমাকে কখনো রক্তাক্ত করবে, কখনো বা মিষ্টি ছোঁয়া বুলিয়ে দেবে আদর, বেদনাহত আমিকে। আমি সেই ।
'অনিচ্ছা নির্বাসন বুকে নেয়া ঘোলাটে চাঁদ।

ইসময়/আরএম/এমআরএম