তাইফুর রহমান (বালী তূর্য) লেখক ও সমাজকর্মী:
কয়েক ফোটা অশ্রু নিয়ে গেলাম বড় ভারাক্রান্ত মনে
সাগরের জলে দেব বলে,
সে আমায় অশ্রু শুকিয়ে তার নীজ জলের বিশালতার শিক্ষা দিলো।
সে বলে,আপনায় রঙিন হও অপরের রঙে।
যেমনি বসন্তের আকাশের রঙে নীল আমি,
বর্ষায় সেই আমিই ভয়ংকর কালো।।
বিশাল করো অন্তর ম-ম, উৎসর্গ করো দেহ।।
শোনো হে বিশাল দড়িয়া,
মানুষ তোমায় দেখে কাদতে এসে হেসে যায়,
ক্ষুধায় অন্নের সন্ধানে নাও ভাসায়,
আদের উচ্ছিষ্ট ময়লায়ও তোমাতে ভাসিয়ে দেয়।
কিন্তু আজ তোমার মনটা কি ভালো?
নাকি তুমিও বিরহে কেদে কেদে এই জল জমিয়েছ?
কখনো শান্ত তুমি, নিরবে আকাশের নীল জল।।।
সেই তুমিও তো গর্জে ওঠো তীব্র হুংকারে,তুফান হয়ে।।
উচু উচু ফনা তুলে তুমিওতো নাচো মেঘের গর্জনের তালে তালে।
তবে কি চড়ম আনন্দে উন্মত্ত তুমি, নাকি তীব্র ক্ষোভে ফেটে পরো তখন।
এই নিরবতাই কি তোমার রূপ,নাকি আজ তোমারও মনটা খারাপ?
তুমি যেই নীল আসমানের প্রেমে নিজেকে সাজিয়েছো নীলে,
তুমিও তো তাকে ছুয়ে দেখনি যুগ যুগান্তরে।
তবে কি এই ছুয়ে না দেখাটাই প্রেম,হে দড়িয়া?
নাকি ভালোবাসাকে ছুতে না পারার বিরহই তোমায় নীল করেছে?
হে সমুদ্র,
তোমার বিশালতা আর নীল জলের প্রেমিক আমি।
তবে দাঁড়িয়ে থাকবো সেদিনও,
নির্ভয়ে দেখব তোমার ফনা তোলা সেই ভয়ংকর ঢেউ
আর মেঘের গর্জনের তালে তোমার উন্মাদ নৃত্য দেখতে।
ইচ্ছা হলে,আমায় ভালোবাসলে আমাকেও ভাসিয়ে নিও সেই নৃত্যে,আমিও ফিরবো না আর।
ফেরাতে হবে না তোমার ঐ বিশাল জলরাশি থেকে
তবু বলে দাও,আমার অশ্রু নেবে,নাকি তোমার তোমার পুরো জলটাই তোমার অশ্রুপাত?
আমায় বলো হে সমুদ্র,
আজকে কি তোমার মনটা খারাপ?