সব সময় সব খানে


বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> পঞ্চগড়ে সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা গ্রেফতার।

>> ভাঙ্গায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা

>> কোনো দুই নম্বরি কাজ আমার আমলে কোথাও করা যাবে না - ত্রাণমন্ত্রী দুলু

>> সরকারি জায়গায় বালু ফেলে দখল চেষ্টার অভিযোগ বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে

>> জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্য সরকারের: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

>> মানুষের সঙ্গে কাজের সম্পৃক্ততাই আমাকে ক্লান্ত হতে দেয় না: ত্রাণমন্ত্রী

>> আলোকিত লালমনিরহাটের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান ত্রাণমন্ত্রী দুলুর

>> বকশীগঞ্জে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

>> বকশীগঞ্জে ২ হাজার ৭২৬ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড, বিতরণ কৃষি উপকরণ সহায়তা

>> মামলা-হামলা উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয়, জেলা যুবদলের সভাপতি প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বরাত

আপনি পড়ছেন : শিক্ষা

সদরঘাটে জবি ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে ৪০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ, সাংবাদিক হেনস্তা


জবি প্রতিনিধি

eshomoy.com || 2026-10-05
সদরঘাটে জবি ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে ৪০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ, সাংবাদিক হেনস্তা

রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কয়েক শিক্ষার্থী ও ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি, মারধর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের অনুসারী কয়েকজনসহ ছাত্রদলের কয়েক কর্মী ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তা ও ধাক্কাধাক্কি করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।


সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সন্ধ্যার দিকে লঞ্চে প্রবেশের সময় কর্মীরা তাদের বাধা দিলে এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থীর একজন লঞ্চের এক কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


পরে ঘটনাস্থলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল; ইতিহাস বিভাগের ১৮ ব্যাচের সাইদ ও নাইম; থিয়েটার বিভাগের ১৮ ব্যাচের নাইম; আইইআর বিভাগের ১৮ ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮ ব্যাচের বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।


জানা যায়, সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের ফের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মী আহত হন। এ সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মোবাইল ফোন ভাঙার অভিযোগও ওঠে।


ঘটনার পর মোবাইল ফোন ভাঙা ও চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এ সময় ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় বলে জানা গেছে।


পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের এক কর্মী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে গাঁজা ও বিভিন্ন মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।


তিনি বলেন, “এই ঘটনার পর আমরা লঞ্চ মালিক সমিতির অফিসে বসি। সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।”


প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, “আর্থিক লেনদেনের কত টাকা নিয়েছে, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন। পুরান ঢাকা, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রদূত ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই আমরা চাই, কেউ যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না করে।”


লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুবরাজ হোসেন বলেন, “আজকের ঘটনার পর আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।”


এদিকে মীমাংসার নামে টাকা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছাত্রদলকর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের জোর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।


অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী শের আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ভেতরে ছিলাম, কিছু জানিনা। আমাদের ছোট ভাই সৈকতের সাথে লন্সের স্টাফদের ঝামেলা লাগছিলো। আমরা গিয়ে সমাধান করে দিয়েছি।


পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের বলেন, “আমরা যখন ভেতরে প্রবেশ করি, তখন ভেতরে একটি মিটিং চলছিল। আমরা আমাদের পরিচয় দিই এবং জানাই যে সাংবাদিকতার কাজ নিয়ে এসেছি। পরিচয় দেওয়ার পর সেখানকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারা উচ্চবাচ্যে প্রশ্ন তোলে, ‘এখানে সাংবাদিক কে ডেকেছে?’ এবং সেখান থেকে আমাদের অবিলম্বে বের হয়ে যেতে বলা হয়।”


তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরি এবং সাংবাদিকতার আইডি কার্ডও দেখাই। কিন্তু তারা তা তোয়াক্কা না করে এক ধরনের মব সৃষ্টি করে আমাদের হেনস্তা শুরু করে। প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে ধাক্কাধাক্কি করতে করতে জোরপূর্বক আমাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।”


এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “আমি এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত নই। যদি ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ টাকা দাবি করে থাকে, তাহলে ছাত্রদল এর দায়ভার নেবে না। তারা ছাত্রদলের কর্মী নয়। আর যদি ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকে, তাহলে ছাত্রদল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।”