কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিএনপির অবরোধ কর্মসূচিতে সংঘর্ষের সময় পুলিশের ছোড়া টিয়ারগ্যাসে আহত হয়ে আশিক মিয়া (৫৫) নামে এক চা দোকানির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাতে বাজিতপুরের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।
আরও পড়ুন- ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসে বিএনপির হামলা ও ভাঙচুর
স্বজনদের দাবি, মঙ্গলবার সকালে ভৈরবে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের সময় টিয়ারগ্যাসে আহত হন চা দোকানদার আশিক মিয়া। তিনি ভৈরব পৌর শহরের গাছতলাঘাট এলাকার মৃত আব্দুল কাদির মিয়ার ছেলে।
বুধবার (১ নভেম্বর) সকালে কমলপুর মাদ্রাসায় জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।ভৈরব শহরের মুসলিমের মোড় গাছতলাঘাট এলাকায় রাস্তার পাশে নিজ বাড়িতে চা বিক্রি করতেন আশিক মিয়া।

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির প্রথমদিন মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এসময় গ্যাসে আক্রান্ত হন তিনি।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে আশিক মিয়াকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন- দীঘিনালায় জাতীয় যুব দিবস পালন
এ দিকে আশিকুর মিয়া বিএনপির কর্মী ছিলেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিএনপি। তবে নিহতের ভগ্নিপতি সহিদ মিয়া জানান, আশিক মিয়া কোন দলের রাজনীতিই করতেন না। চায়ের দোকান নিয়েই সারাদিন পড়ে থাকতেন। মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় পুলিশের ছোড়া টিয়ারগ্যাসে আশিক মিয়া আহত হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে বাজিতপুর ভাগলপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। আশিক মিয়া হার্টের রোগী ছিলেন। টিয়ারগ্যাসে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। রাত ৮টায় হাসপাতালে মৃত্যু হয়।
ভৈরব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, টিয়ারগ্যাসে কারও মৃত্যু হয়েছে এমন কোন তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তবে এমনটি হয়ে থাকলে ডাক্তারের দেয়া রিপোর্ট দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইসময়/একে/এমআরএম