শ্রীপুরে বনভূমি জবরদখল করে নির্মাণ করা দুইটি ঘর ভাঙ্গাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- শাজাহানপুরে ধানের জমিতে গলাকাটা লাশ উদ্ধার
বুধবার (১২নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার লোহাগাছ গ্রামের কাজল ও রাকিবের বাড়িতে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আল-মামুনের নেতৃত্ব এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঘর দুটির বেড়া সরিয়ে দেয়া হয়।
সদ্যনির্মিত ঘর দুইটি ভাঙ্গতে গেলে, কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করে তারা। পরে প্রাথমিকভাবে ঘরের বেড়া সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। বেড়া সরিয়ে দেয়া হলে যারা গৃহ নির্মাণ করেছেন তারা কিছু কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়ে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট অনুরোধ করে কিছুদিন সময় দাবি করে। কাগজপত্র যাচাইবাছাই করে পরবর্তী সীদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।

এ বিষয়ে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মোকলেছুর রহমান রিপন জানান, যে দুইটি ঘর ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে, সে জমি সম্পূর্ণ বনভূমির। লোহাগাছ মৌজার সিএস ৩০, আরএস ৪৬৫ ও ৫২৬। এর মধ্যে ৪৬৫ আরএস দাগটি উডলট বাগানের অংশ। বনভূমি জবরদখল মুক্ত করে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পরিচালনা ব্যয় খাতে বাগান সৃজনের উদ্দেশ্যে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। ওই সময় তারা কাগজপত্র দেখালে তা যাচাইয়ের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানোর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত ঘরে অবস্থানসহ সব ধরণের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আল-মামুন বলেন, বন বিভাগ বলতেছেন বনের জায়গায়, পরে আমরা গিয়ে দেখলাম, এটা তারা বন্দোবস্ত পেয়েছে সরকারের কাছ থেকে এবং বনের নামে রেকর্ড আছে। পরে আমরা ওই ভাবেই রেখে আসি। পরবর্তী সীদ্ধান্ত জানানোর পূর্বে সকল ধরণের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি।
আরও পড়ুন- সৌদির সাথে বিনিয়োগ খাতে চুক্তিবদ্ধ হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
অভিযানে- রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা জুয়েল রানা, সিংড়াতলী বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, শ্রীপুর সদর বিট কর্মকর্তা আলাল খান, গোসিংঙ্গা বিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, শিমলাপাড়া বিট কর্মকর্তা আখতার হোসেন, সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, সূর্যনারায়ণপুর বিট কর্মকর্তা তৌহিদুর ইসলাম, কাঁচিঘাটা সদর বিট কর্মকর্তা ইলিয়াসসহ ৩০-৪০ জন বন প্রহরী ও শ্রীপুর মডেল থানার এসআই শাখাওয়াতসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ইসময়/রআ/এমআরএম