একাদশ সংসদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জাহিদ মালেক। তিনি মানিকগঞ্জ পৌরসভা, সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকার প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন তিনি।
আরও পড়ুন- পীরগঞ্জে কৃষি খাস জমিতে ভূমিহীনদের অভিগম্যতা বিষয়ক সেমিনার
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে তিনি জয়ী হয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত পনেরো বছরের হিসাব নিকাশে এই আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের আয় বেড়েছে ১১ গুণের বেশি। একই হারে বেড়েছে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণও। অস্থাবর সম্পদের আর্থিক মূল্য বেড়েছে ৬৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
২০০৮ সালের নবম এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জাহিদ মালেকের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন- নাটোরে আড়াই লাখ শিশুকে ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে
জমা দেয়া হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবার হলফনামায় পেশা হিসেবে মন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার উল্লেখ করেছেন। আর ২০০৮ সালের হলফনামায় তিনি পেশা হিসেবে ব্যবসা ও অন্যান্য উল্লেখ করেছিলেন।

বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট অথবা অন্যান্য ভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ব্যাংক আমানত এবং অন্যান্য বাবদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্ষিক আয় এখন ৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা ২০০৮ সালে ছিল ৭১ লাখ। এ হিসাবে গত ১৫ বছরে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে ৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
অর্থাৎ ১৫ বছরে বার্ষিক আয়ের পাশাপাশি বেড়েছে অস্থাবর সম্পদও। এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১১ গুণ।
আরও পড়ুন- দীঘিনালায় “নারীর গৃহাস্থালী কাজের স্বীকৃতি ও গৃহকাজে সহযোগিতা”
এবার নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকা, বন্ড ও ঋণপত্র, যানবাহন ও অন্যান্য বাবদ তার অস্থাবর সম্পদের আর্থিক মূল্য ৭০ কোটি ৩৩ লাখ। যা ২০০৮ সালে ছিল ৬ কোটি ৭৮ লাখ। এ হিসাবে ১৫ বছরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের আর্থিক মূল্য বেড়েছে ৬৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লি. এবং সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার ও কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের কাছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার দায় রয়েছে। ২০০৮ সালে সেই দায়ের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার দায় রয়েছে। তবে হলফনামায় তিনি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের কোনো হিসাব দেননি।
আরও পড়ুন- সাভার-ধামরাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ২
২০০৮ সালে জাহিদ মালেকের নামে অকৃষি জমি ছিল ২ দশমিক ৫ কাঠা এবং তার স্ত্রীর ছিল ২ দশমিক ৫ কাঠা। এছাড়া ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ জমিতে ১১ তলা আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। এবং যৌথ মালিকানায় ৪০ বিঘা কৃষিজমি ছিল। এখনও এই স্থাবর সম্পদের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে স্ত্রীর নামে ২ দশমিক ৫ কাঠার ওই জমি এবার নির্ভরশীলদের নামে স্থানান্তর করা হয়েছে। যৌথ মালিকানার ৪০ বিঘা কৃষিজমি এবার নির্ভরশীলদের নামে রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে হলফনামা অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্ত্রী শাবানা মালেকের অস্থাবর সম্পদ কমেছে। ২০০৮ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকার বন্ড বা ঋণপত্র ছিল। এবারের হলফনামায় তা উল্লেখ নেই। তবে ১৫ বছরে তার পাঁচ ভরি স্বর্ণ বেড়ে হয়েছে ৫৫ ভরি। ১৫ বছরে শাবানা মালেকের প্রায় ৩৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ কমেছে।
আরও পড়ুন- আটোয়ারীতে অফিসার্স ক্লাবের স্মার্ট ব্যাডমিন্টন কোর্টের উদ্বোধন
তিনি ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হয়ে দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর। পরে ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হয়ে দায়িত্ব পান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর।
টানা তিন বারে মাথায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী পেয়ে তিনি তার দায়িত্ব পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। এ সময় করোনা মহামারী ও ডেঙ্গু মোকাবেলাসহ দেশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি রোগ নির্মূলে কাজ করেন তিনি।
ইসময়/রআ/এমআরএম