করোনার ধকল কাটিয়ে না উঠতেই সামনে এসেছে আর এক মহামারি।অতি ভয়াবহ এই মহামারির নাম ‘ডিজিজ এক্স’। তবে আশার খবর হলো ভয়াবহ এই রোগটি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার আগেই আবিষ্কার করা হচ্ছে এর প্রতিষেধক। এই প্রতিষেধক তৈরির কাজ করছেন যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী।
প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন তৈরির এই কাজ চলছে ইউকে হেলথ অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সির ( ইউকেএসএইচএ) বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ক্যাম্পাসে। ২০০ জন বিজ্ঞানী সেখানে কাজ করছেন।
বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, তাদের আবিষ্কৃত প্রতিষেধকে বা ভ্যাকসিনে ‘ডিজিজ এক্স’ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার আগেই দমন করা যাবে। এই মহামারিটি করোনার মতো তাণ্ডব দেখাতে পারবে না।
আরও পড়ুন- ডেঙ্গুর নতুন উপসর্গের হানা, ২৫ মৃতের ১৪ জনই শিশু

ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির (ইউকেএইচএসএ) প্রধান প্রফেসর ডেম জেনি হ্যারিস জানান, আমরা এখানে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি যদি নতুন ডিজিজ এক্স বা একটি নতুন প্যাথোজেন পাওয়া যায় তাহলে তা মোকাবিলার জন্য অগ্রিম কাজ করে রাখছি।
তিনি আরও জানান, আশা করি আমরা এই নতুন মহামারিটি ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধ করতে পারব। কিন্তু যদি আমরা না পারি সেকারণে আমরা ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন এবং থেরাপিউটিকস তৈরির কাজ করতে শুরু করেছি।
আরও পড়ুন- বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় এশিয়ায় ১ম, বিশ্বে ৫ম : জাহিদ মালিক
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিজ্ঞানীদের ‘ডিজিজ এক্স’র ভ্যাকসিন তৈরির জন্য মোট ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। শুধুমাত্র যুক্তরাজ্য সরকারই এর জন্য ১৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। অন্যদিকে জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি নরওয়ের গেটস ফাউন্ডেশন এবং ওয়েলকাম ট্রাস্টও এই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

ডিজিজ এক্স কী?
বিজ্ঞানীরা পশু ভাইরাসগুলির একটি তালিকা করেছে যেগুলো এক সময় মানুষকে আক্রমণ করতে সম্ভব। কিন্তু এই ভাইরাস সম্পর্কে কোনও ধারণা পাওয়া যায়নি যার কারণে এই ভাইরাসটি ‘ডিজিজ এক্স’ নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন- উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ‘ডিজিজ এক্স’ কথাটির অর্থ হলো, এমন একটি রোগ যা অতিমারি ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সেই রোগটির প্যাথোজেন কীভাবে মানুষের ক্ষতি করতে পারে, তা এখনো অজানা।
ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের অধ্যাপক এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মার্ক উলহাউস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এমন একটি জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, যা যে কোনো সময়ে নতুন একটি অতিমারি সৃষ্টি করতে পারে মানুষের মাঝে।

কেমন হতে পারে এই ‘ডিজিজ এক্স’?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটিও এক ধরনের Zoonotic রোগ হওযার আশঙ্কাই রয়েছে।
আরও পড়ুন- ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর দ্বায়সারা হিসাব?
কী এই Zoonotic রোগ?
এটা মানুষ থেকে অন্য প্রাণীদের মধ্যে বা অন্য প্রাণীদের থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে এমন রোগকেই Zoonotic রোগ বলা হয়। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা তেমনই কোনো অসুখ হতে চলেছে এই ‘ডিজিজ এক্স’। আর সেটা পুরো পৃথিবী জুড়েই ছড়িয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন- প্রেশার আপ-ডাউন হলে কী কী করা যাবে না
ই-সময়/আরএম/এমআরএম