ভোলা দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বয়েজউদ্দি হাওলাদার বাড়ি বাসিন্দা রিক্সা চালক মোঃ রিয়াজ (৩০) কে একাধিকবার থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির বাসিন্দা রিপন গংদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী রিয়াজ অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার জমিতে ঘর তৈরি করেছি। ঘর তৈরি করার পর রিপন আমার ঘরের সাথে জুরিন্দা দিয়ে ঘর তৈরি করার জন্য আমাকে অনুরোধ করে। আমি তার অনুরোধ শুনে তাকে আমার ঘরের সাথে জুরিন্দা দিয়ে ঘর তৈরি করার জন্য অনুমতি দেই। কিন্তু দীর্ঘ ২ বছর চলে গেল ও তিনি ঘর তৈরি করেনায়। এখন আমি আমার ঘরের সাথে জুরিন্দা দিয়ে ঘর তৈরি করতে তাকে নিষেধ করে দিয়েছি।
আরও পড়ুন- গুরুদাসপুরে গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ
এজন্য আমি আমার ভীমের বাড়তি রড গুলো কেটে ফেলেছি। এর সূত্র ধরেই রিপন ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে, রড় কাটা দেখে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে সে নিজেই নিজের ঘরের মধ্যে জামা কাপড় এলোমেলো করে দরজার দুটি টিন বাড়ির সবার সামনে খুলে ফেলে।

সে অভিযোগ করে আরো বলেন, নিজের ঘর নিজে এলোমেলো করে দৌলতখান থানায় গিয়ে আমার বাবা মোঃ মুসলিম হাওলাদার, ভাবী সুরমা বেগম ও আমাকে এবং আমার ছোট ভাতিজা'র নামে একটি মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে লুটপাট এর অভিযোগ করেন। অথচ যে সময় রিপন ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে, সে সময় আমি রাস্তায় গাড়ি চালাই। থানায় অভিযোগ করার পর অভিযোগ পেয়ে থানা থেকে পুলিশ এসে ঘটনা তদন্ত করে। তিনি আরো বলেন, বারবার কেন মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে আমি সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
আরও পড়ুন- ইউনূসকে নিয়ে মাঠে নামতে চায় বিএনপি : সেতুমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (৭ই সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লুটপাট এর মত কোন ঘটনা ঘটেনি। লুটপাট হয়েছে বা চুরি করে নিয়ে গিয়েছে এমন কোন তথ্য প্রমাণাদি ও দেখাতে পারেনি অভিযুক্ত রিপন গংরা।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা জানান, রড কাটা নিয়ে মূলত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। কিন্তু রিপন থানায় গিয়ে যে লুটপাট এর অভিযোগ দায়ের করেছে তার সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। তার এ ধরনের কার্যকলাপে আমরা বাড়ির মানুষ রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। আমরা তার এই অসুস্থ কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

উক্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রিপন হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি ঘর তৈরি করার সময় আমার জমিনের ভিতর ঘর চলে এসেছে। তখন তারা আমাকে বলেছিল জুরিন্দা দিয়ে ঘর উঠানোর জন্য। এখন সে আমাকে কিছু না জানিয়ে ভীমের রড কেটে ফেলেছে। রড কাটার জন্য আমার ঘরের দরজা ভেঙে ঘরের মধ্যে ঢুকে লুটপাট চালায়।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা দৌলতখান থানার এসআই জসিম উদ্দীন বলেন, মূলত ভীমের রড কাটা নিয়েই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। রড় কেটে ফেলাতে রিপন'রা ক্ষিপ্ত হয়ে লুটপাটের মত একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
আরও পড়ুন- বরগুনায় ৯৯৯ কলে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার
ইসময়/আরএম/এমআরএম