জনবিচ্ছিন্ন হলে আওয়ামী লীগ তার মূল্যায়ন করে না, আর তা এবারের মনোনয়নে প্রতিফলিত হয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যে কারণে এবার বর্তমান সংসদের ৭০ এর বেশি সংসদ সদস্য মনোনয়ন পাননি। তাদের মতে, নির্বাচনে বিএনপি এলেও আওয়ামী লীগের এ মনোনয়ন তালিকা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক।
সোমবার (২৭ নভেম্বর) সময় সংবাদকে এসব কথা বলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হারুন অর রশীদ ও সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত।
আরও পড়ুন- বাসে আগুন দেয়ার সময় যুবদলের চার নেতা গ্রেফতার- ডিবি হারুন
রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর রাজনীতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, একবার এমপি হলেই যে তিনি সব সময়ের এমপি নন, সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে এ তালিকার মধ্য দিয়ে। তার মতে, বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে তবুও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে পারবেন মনোনিত প্রার্থীরা।
তিনি আরও বলেন, যারা জনবিচ্ছিন্ন হয়েছেন তাদের এবার মনোনয়ন দেয়া হয়নি। অল্প কিছু যদি দেয়া হয়, তাহলে সেটা ভিন্ন ও ব্যতিক্রম। ৭৩ জনের মতো এমপি বাদ পড়েছেন, ৩ জন প্রতিমন্ত্রী তারাও বাদ পড়েছেন।
এর অর্থ দাড়াল এবার আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপি যদি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, ধরেই নেয়া যাক যদি করে, তাহলে এই মনোনয়ন এমনভাবে করা হয়েছে যে, পরিবর্তন করা যাবে না।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলছে। মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা দেখার পর সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত মনে করেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে যারা বেশি অবদান রাখতে পারবেন, তারা তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
অজয় দাশগুপ্ত বলেন, সামনে কিন্তু অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। ১৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে উন্নত দেশের সারি যেতে চায়, স্মার্ট বাংলাদেশ করতে চায়। এই সংসদে যারা থাকবেন, তাদের অনেকগুলো বড় বড় পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই কাজটা মোকাবিলার মতো উপযুক্ত কারা, প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি এসেছে বলে মনে হয়।

ঘোষিত ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৪ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি নবীন এবং প্রবীণের সমন্বয় আছে চূড়ান্ত মনোনয়নে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রতিবারের মতো এবারও দফায় দফায় বসে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা। তবে এবার শুরু থেকেই রাখঢাক ছিলো অনেক বেশি। যে কারণে দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের আগে সেভাবে জানা যায়নি, কারা হচ্ছেন নৌকার মাঝি।
রোববার নৌকার প্রার্থীদের নাম ঘোষণার করে আওয়ামী লীগ। দেখা যায় ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনের পর মনোনয়নে এতো বড় রদবদল আর কখনো হয়নি।
চলতি মাসের ১৫ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হবিবুল আউয়াল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়নের আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং ভোটগ্রহণ ৭ জানুয়ারি।
আরও পড়ুন- গ্রেফতার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন বাস্তবতা বিবর্জিত- অ্যাটর্নি জেনারেল
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ভোট হতে হবে। গত ১ নভেম্বর থেকে এবারের নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে।
২৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির। সে অনুসারে ১৫ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
ইসময়/একে/এমআরএম