বুধবার (৩০ জুলাই) রাশিয়া জানিয়েছে যে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর উপর হামলা যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে না দাঁড়ায় এবং এমন হামলা থেকে যে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক করেছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)'র মধ্যে সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার জন্য হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বর্তমানে IAEA'র ইরানি স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
চীন ও ইরানের সঙ্গে সংলাপ:
জাখারোভা ইরান, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক ত্রিপক্ষীয় আলোচনার কথা উল্লেখ করেন, যা কূটনৈতিক উপায়ে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছার সম্ভবনা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, এই চলমান সংলাপ যদি আন্তরিকতার সাথে পরিচালিত হয়, তবে সামনে অগ্রসর হওয়ার একটি ক্ষেত্র সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি নিউ ইয়র্ক ও তেহরানে অনুষ্ঠিত যৌথ বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনটি পক্ষ ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়নের উপায় এবং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করেছিল। রাশিয়া বলেছে, তারা এমন একটি কূটনৈতিক কাঠামোকে সমর্থন করে, যাতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকে এবং সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়।
চীন এবং মস্কো IAEA'র সঙ্গে সহযোগিতার একটি নতুন মডেলের বিষয়ে ইরানের আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। জুন মাসের শেষে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর ইরানি সংসদ IAEA'র সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিতের পক্ষে ভোট দেয় এবং পুনরায় প্রবেশাধিকার দেওয়ার আগে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়।
‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে চাপ বাড়ছে:
এইসব বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরান, চীন এবং রাশিয়া নিউ ইয়র্ক ও তেহরানে যৌথ বৈঠক করছে। সেখানে তারা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় প্রত্যাহার করা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহালের ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের করণীয় ঠিক করছে। যদি কোনো নতুন চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তবে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর হতে পারে।
ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি ইউরোপীয় শক্তিগুলো — ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য — এই নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করে, তাহলে তারা পারমাণবিক অস্ত্র না ছড়ানোর চুক্তি (NPT) থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলো আগস্টের শেষ নাগাদ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার হুমকি দিয়েছে।
Iranintl.com, 30 July