গাজা যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি সুসংহত করার এবং এলাকা পুনর্নির্মাণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও একটি ইহুদিবাদী সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা উপেক্ষা করে গাজায় পুনরায় বৃহৎ পরিসরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। ইহুদিবাদী টেলিভিশন চ্যানেল-১৩ একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইলি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তারা গাজায় একটি বৃহৎ পরিসরে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করতে চায়, যা বাস্তবে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকে অবজ্ঞা করার মতো পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হয়। চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার মধ্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সপ্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার এবং কথা বলার জন্য ফ্লোরিডার মিয়ামিতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
চ্যানেল-১৩ আরও জানায়, নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন, যেখানে গাজায় পুনঃপ্রবেশ এবং বৃহৎ আকারের আক্রমণ পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের মূল্যায়ন হলো ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল করতে এবং গাজাকে সামরিকীকরণের জন্য একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠন করতে অক্ষম। অথচ সামরিক আক্রমণ বন্ধের বিকল্প ও একমাত্র সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল বহুজাতিক বাহিনী গঠন। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে যে নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের বৈঠকের পরে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইহুদিবাদী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ আরও বলেছেন, নির্বাচনের আগে ইসরাইল সম্ভবত গাজা এবং লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য হবে এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী না-ও হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ হুইটক মিসর, কাতার এবং তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেছেন দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রভাবে গাজায় ভয়াবহ ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতিকে তারা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা উপকরণ এবং ল্যাবরেটরি সামগ্রীর তীব্র ঘাটতির কারণে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের যথাসময়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, ইসরাইল গাজায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দেওয়ায় চিকিৎসকরা জীবন বাঁচাতে চরম সংকটে পড়ছেন। চলমান যুদ্ধের মধ্যে গাজার প্রায় সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রই হামলার শিকার হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১২৫টি স্বাস্থ্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪টি হাসপাতাল রয়েছে।