সব সময় সব খানে


শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস ফাঁকির অভিযোগ, হাজিরা খাতায় নেই স্বাক্ষর

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

>> বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ গঠন: আহবায়ক এড.ইসমাইল ও সদস্য সচিব এড.পলাশ কান্তি নাগ

>> হাতিয়ায় ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

>> সিজারিয়ানে হেলথ কেয়ার হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু, দুই সপ্তাহেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই

>> পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ইউরিয়া সার ও ভারতীয় গরু আটক

আপনি পড়ছেন : সিরাজগঞ্জ

সিজারিয়ানে হেলথ কেয়ার হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু, দুই সপ্তাহেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই


ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

eshomoy.com || 2026-09-05 22:42
সিজারিয়ানে হেলথ কেয়ার হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু, দুই সপ্তাহেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই
হেলথ কেয়ার হাসপাতাল

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় বেসরকারি হেলথ কেয়ার হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় খাদিজা খাতুন (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।

গত ২৬ আগস্ট রাতে সিরাজগঞ্জ রোড এলাকায় অবস্থিত হেলথ কেয়ার হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় খাদিজার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। নিহত খাদিজা সলঙ্গা থানার বাসুদেবকোল গ্রামের সোহেল রানার স্ত্রী এবং আমশড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রসবজনিত চিকিৎসার জন্য খাদিজাকে ওই রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময়ই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে দাবি পরিবারের।

স্বজনদের ভাষ্য, অপারেশন শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও খাদিজাকে বেডে নেওয়া হচ্ছিল না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন স্বজনদের জানায়, তার জ্ঞান ফিরতে সময় লাগছে এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। একপর্যায়ে স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে খাদিজাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন।

খাদিজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্বজনরা হাসপাতালের সামনে কান্না ও আহাজারি করতে থাকেন। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা, যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কিংবা অ্যানেসথেশিয়াজনিত জটিলতার কারণে খাদিজার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা নথি, অপারেশন সংক্রান্ত তথ্য, অ্যানেসথেশিয়ার রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার পর উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের মালিক ফিরোজও কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি, তদন্ত চলাকালে হাসপাতালের সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।

কিন্তু নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তদন্ত কমিটির কার্যক্রমকে পাশ কাটিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরিবারের প্রশ্ন-যদি তদন্ত শেষ না হয়ে থাকে এবং অপারেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম কোন নিয়মে চলছে এবং কে তা তদারকি করছে?

পরিবারের সদস্যদের দাবি, তদন্ত কমিটিকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের কার্যক্রম কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

হাসপাতালের মালিক ফিরোজের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী তাদের ২০টি বেড রয়েছে। এর বেশি বেড নেই।

তবে হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, ২০২৬ সাল পর্যন্ত তারা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং নতুন করে দুই বছর মেয়াদি লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। নবায়ন প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে বলেও জানান তিনি।

এখানেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা-লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকলে হাসপাতালটির বর্তমান কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা কী এবং কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে তা চলছে? বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের সরেজমিন যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, হাসপাতালটিতে কোনো কোনো সময় অনুমোদিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি দেখা যায়। সেখানে কর্মরত নার্সদের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত সনদ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগটি সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাসপাতালের জনবল, নার্সিং সনদ, চিকিৎসকদের নিবন্ধন এবং অপারেশন থিয়েটারের অনুমোদন যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার পর বিষয়টি দ্রুত মীমাংসা কিংবা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। পরিবারের দাবি, প্রভাবশালী কোনো মহলের চাপ কিংবা আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে যেন খাদিজার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আড়াল করা না হয়।

তারা স্পষ্টভাবে বলছেন, খাদিজার মৃত্যু কোনোভাবেই আপস বা সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে চান না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা চান তারা।

এলাকাবাসীরও অভিযোগ, এর আগেও ওই হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল। ফলে সর্বশেষ ঘটনাটি বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, জনবল, অনুমোদন, অপারেশন ব্যবস্থাপনা ও পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গাইনি চিকিৎসক, অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে হাসপাতালের মালিক ফিরোজ বলেন, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমানে সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রয়েছে।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন নুরুল আমিন বলেন, ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।

নিহত খাদিজা খাতুনের পরিবারের অভিযোগ, একজন প্রসূতির মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এ ঘটনার পেছনে চিকিৎসাগত অবহেলা বা অন্য কোনো অনিয়ম থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্টদের নিতেই হবে।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, তদন্ত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করে যেন ঘটনা আড়াল করার সুযোগ দেওয়া না হয়। আমরা কোনো সমঝোতা চাই না, আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

তাদের দাবি, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করতে হবে। খাদিজার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের পাশাপাশি হাসপাতালটির লাইসেন্স, বেড সংখ্যা, চিকিৎসক-নার্সের যোগ্যতা, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা নথি যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন এখন একটাই-তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের দুই সপ্তাহ পরও যদি দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না আসে, তাহলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হাসপাতালটির কার্যক্রম কতটা নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রিত? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন প্রত্যাশা করছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।