কম
খরচে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ৪১ হাজার ৫০০ টাকায় প্রায় ১০ লাখ টাকার রেল ড্রিলিং মেশিন উদ্ভাবন করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার। এতে বিদেশ নির্ভরতা কমার পাশাপাশি অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে। এর আগে তিনি রেল কাটিং মেশিনও তৈরি করে সফলতা পেয়েছিলেন।
রেললাইন ছিদ্র করতে প্রয়োজন হয় বিশেষ রেল ড্রিলিং মেশিন। কোনো দুর্ঘটনায় রেললাইন ভেঙে গেলে দ্রুত ছিদ্র করে ফিসপ্লেট ও ফিসবোল্ট (নাট-বল্টু) লাগিয়ে দুই অংশ জোড়া দিতে হয়। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে প্রকৌশলীরা জার্মানির তৈরি ড্রিল মেশিন ব্যবহার করে আসছিলেন, যার দাম প্রায় ১০ লাখ টাকা। আমদানি করতে সময়ও লাগত প্রায় দুই বছর।
তবে এবার দেশেই মাত্র ৪১ হাজার ৫০০ টাকায় যন্ত্রটি উদ্ভাবন হওয়ায় আশার আলো দেখছে রেলওয়ে। বর্তমানে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের পাশে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের টুলস অ্যান্ড মেশিনারি মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপে পরীক্ষামূলকভাবে যন্ত্রটি ব্যবহার করছেন কর্মচারীরা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষায় যদি মেশিনটি টেকসই প্রমাণিত হয়, তবে দেশেই উৎপাদন করা হবে। এতে বিদেশ নির্ভরতা কমবে, পাশাপাশি অর্থ ও সময়-উভয়ই সাশ্রয় হবে।
উদ্ভাবক নাজিব কায়সার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক শেষে ৩৩তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েতে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের প্রকৌশলী-২ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নাজিব কায়সার জানান, দুর্ঘটনার পর রেললাইন জোড়া দিতে রেল ড্রিল মেশিন অত্যন্ত জরুরি। জার্মানি থেকে আমদানিকৃত মেশিনের দাম ১০ লাখ টাকা, আর দেশে আনতে সময় লাগত দুই বছর। বিষয়টি মাথায় রেখে ওয়ার্কশপের কর্মচারীদের সহায়তায় মাত্র ১৫ দিনে দেশীয় প্রযুক্তিতে মেশিনটি তৈরি করেছি। খরচ হয়েছে মাত্র ৪১ হাজার ৫০০ টাকা। পরীক্ষায় দেখা গেছে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই রেললাইন ছিদ্র করা যাচ্ছে, যা আমদানিকৃত মেশিনের তুলনায় আরও দ্রুত।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, পুরোনো রেললাইনে দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। রেললাইন ভেঙে গেলে দ্রুত জয়েন্ট দিতে হয়। সবসময় ওয়েল্ডিং করা সম্ভব হয় না, তাই ফিসপ্লেট-ফিসবোল্ট দিয়ে জোড়া দিতে চারটি ছিদ্র করতে ড্রিল মেশিন লাগে। আগে বিদেশ থেকে মেশিন আনতে খরচ ও সময় দুটোই বেশি লাগত। এখন নিজস্ব ওয়ার্কশপে তৈরি হওয়ায় দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) লিয়াকত শরীফ খান বলেন, পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই রেললাইন ছিদ্র করা যাচ্ছে। প্রকৌশল বিভাগ এরমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে মেশিনটি ব্যবহার করছে। যন্ত্রটি টেকসই হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে পাকশী বিভাগের আওতায়