সিদ্ধিরগঞ্জে গানের আসরের আড়ালে চলছে দেহব্যবসা, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও ব্লাকমেইলিং। এমন স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারণে থানা পুলিশ নির্বিকার। পুলিশের দাবি গানের আসরের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এদিকে আয়োজকরা বলছেন থানা পুলিশকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে আসর চালাচ্ছে তারা।
আরও পড়ুন- শেরপুরে ক্ষুদে ফুটবলারকে ধর্ষণের পর পর্ণোগ্রাফি তৈরি, গ্রেফতার-১
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকার উত্তর পাশে পাইজা মার্কেট পাশে ইমরান দেওয়ান নামে এক ব্যক্তি রাতে গানের আসর বসায়। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে আসরে গান পরিবেশন করে ভোরে বাসায় ফেরার পথে এক শিল্পিকে অপহরণের চেষ্টা চালায় সাহেবপাড়া এলাকার এক দল ছিনতাইকারী। এসময় ওই শিল্পি দৌঁড়ে রক্ষা পেলেও তার সাথে থাকা খলিল(৫৫)নামে এক বৃদ্ধকে ধরে ফেলে তারা। পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের পিছনে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে মারধর করে সাথে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারী দল। খলিল গান শুনে ওই শিল্পির সাথে জালকুড়ি তার বাসায় ফিরছিলেন।

ভূক্তভোগী খলিল জানান, সাহেবপাড়া এলাকার সুমনের নেতৃত্বে এঘটনা ঘটে। পরে সকালে আসরের আয়োজক ইমরান দেওয়ান ছিনতাইকারীদের সাথে সালিশ বৈঠকে বসে উল্টো ওই শিল্পিকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে। তবে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ও টাকা ফেরত দেয়নি ছিনতাইকারিরা দল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সুমন বলেন ভিন্ন কথা।
আরও পড়ুন- বৃদ্ধার কান ছিড়ে দুল ছিনতাই, পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য গ্রেফতার
সুমন বলেন, ইমরান দেওয়ান গানের আসরের আড়ালে দেহ ব্যবসা চালাচ্ছে। তার আসরের দালাল খলিল ওই শিল্পিকে এক খদ্দেরের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় আমরা তাকে ডাক দেই। কিন্তু শিল্পি দৌড়ে পালিয়ে যায়। তবে খলিলকে চর থাপ্পর দেই। টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে সুমন মোবাইল রেখে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু সাইনবোর্ড নয়, শিমরাইল মোড় টেকপাড়া চেয়ারম্যান বাড়ীর মাছ বাজারের সামনেও রাতে গানের আসরের নামে চলছে এমন অপকর্ম।

একই অবস্থা চলছে জালকুড়ি ও গোদনাইল এলাকায়। গানের আসরের আড়ালে অপকর্ম বিষয়ে জানতে চাইলে ইমরান দেওয়ান জানান, আমার আসরের ভিতরে কোন খারাপ কাজ হয়না। বাহিরে কে কী করে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। ছিনতাই ডাকাতি নিয়ন্ত্রন করা পুলিশের কাজ। আমি থানা পুলিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে আসর চালাচ্ছি।
আরও পড়ুন- রংপুুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা
প্রতিদিন পুলিশের টহল টিমকে ৫০০ টাকা ও ওসিকে মাসে ৩০ হাজার টাকা দেই আমি। আসরে আয় না হলে পুলিশকে টাকা দিব কিভাবে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোস্তফা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, গানের আসরের কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। কোন অপ্রিতিকর ঘটনার অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন- সলঙ্গায় সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত এক, আটক ৩
ই-সময়/আরএম/এমআরএম