সব সময় সব খানে


সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> সিরাজগঞ্জে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী গুরুতর আহত, ঢাকায় রেফার্ড

>> সিরাজগঞ্জে বাস চালককে জরিমানা করায় সড়ক অবরোধে বাজার স্টেশনে তীব্র যানজট

>> বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) অনুমতি ছাড়াই রায়গঞ্জে চলছে ‘মিনি পেট্রোল পাম্প

>> মাত্র এক হাজার টাকার বিরোধে যুবককে হত্যা মামলার মূল আসামি শাহীন গ্রেফতার

>> ফরিদপুরে মামুনুল হকের আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

>> এনায়েতপুর দুটি হত্যা মামলায় প্রভাবশালীদের অব্যাহতিতে বিতর্ক

>> সবুজ সিরাজগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়ে সাত্তার ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

>> দিনাজপুর সীমান্তে ৯ নারীকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বাধা দিল বিজিবি

>> মাদকের চালান টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে: হাতীবান্ধার চার পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নবযোগদানকৃত টিএইচ আই'র সাথে চিকিৎসক সমিতির সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপনি পড়ছেন : শিক্ষা

শিশু নাঈমকে ক্লাসে ফেরাতে ১১ আইনজীবীর নোটিশ


নিজস্ব প্রতিবেদক

eshomoy.com || 2023-11-08 21:01:00
শিশু নাঈমকে ক্লাসে ফেরাতে ১১ আইনজীবীর নোটিশ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাডস্ রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারির ছাত্র নাঈম উর রহমানকে ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে এবং তার ওপর চলমান মানসিক নিপীড়ন বন্ধ করতে নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের ১১ আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন।

নোটিশে বলা হয়, গত ৪ নভেম্বর দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার একটি সংবাদ নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবীদের নজরে আসে। সংবাদটির শিরোনাম ‘প্রতিদিন স্কুল গেটে দাঁড়িয়ে থাকে শিশু নাঈম’। সংবাদটির সবচেয়ে অমানবিক ও হৃদয় বিদারক দিকটি হলো এক বছরের অধিক সময় ধরে শিশু নাঈম উর রহমান প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্কুলের পোশাক পরে।

আরও পড়ুন-অবশেষে হাতিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের নতুন কমিটির ঘোষণা, পদ পেলেন যারা-

এরপর স্কুল ব্যাগ নিয়ে তার জমজ ভাইয়ের সঙ্গে স্কুলের গেট পর্যন্ত আসে। কিন্তু গেটে তাকে আটকে দেয়া হয়। তার সহপাঠী ও অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যখন শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে বা টিফিনের সময় মাঠে খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছে তখন গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে বিষণ্ন মনে তা দেখে নাঈম। স্কুল ছুটি পর্যন্ত সে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে স্কুলের প্রধান গেটে। ছুটি হলে ভাইয়ের সঙ্গে বাসায় ফিরে যায়।

আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, নাঈমের যমজ ভাইয়ের জন্য স্কুলের প্রধান ফটক উন্মুক্ত হলেও নাঈমের জন্য ফটকটি বন্ধ রয়েছে ১৩ মাস ধরে। নিয়ম অনুযায়ী স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও বেতন পরিশোধ করলেও সে স্কুলের উপযোগী নয়, কথা বলতে পারে না, পেনসিল ধরতে পারে না, দুষ্টুমি করে এমন অজুহাতে তাকে অনেকটা অবাঞ্ছিত করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মানবাধিকার ও শিশু অধিকারের প্রতি অবমাননা ও অবজ্ঞা প্রদর্শন।

জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে দি বাডস্‌ রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিশু নাঈম এবং তার যমজ ভাইকে নার্সারির বাংলা মিডিয়ামে ভর্তি করা হয়। স্কুলের অধ্যক্ষসহ তিন সদস্যবিশিষ্ট ভর্তি কমিটি তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ওই বছরের জুন মাস পর্যন্ত তারা শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেয়। পরে জুলাই মাসে পুনরায় ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ওই স্কুলেরই ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি করা হয় এবং তারা একসঙ্গে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেয়। ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে নাঈমকে ক্লাসে এমনকি স্কুলেও ঢুকতে দেয়া হয় না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, সে স্কুলের উপযোগী নয়, কথা বলতে পারে না, পেনসিল ধরতে পারে না।

আরও পড়ুন- হলান্ডকে না দিয়ে মেসিকে ব্যালন ডি'অর দেওয়াটা 'অন্যায়' হয়েছে

এর আগে প্রায় দিনই শ্রেণিশিক্ষক কৃষ্ণা সূত্রধর নাঈমের ডায়েরিতে নানা রকম নেতিবাচক মন্তব্য লেখে। যা শিশুটির ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে। বিষয়টি নিয়ে শিশুটির বাবা অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি কোনো গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো তার সন্তানকে নিয়ে নানা ধরনের আপত্তিকর কথা বলেন। পরবর্তীতে নাঈমের বাবা স্কুল কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু তাতেও কোনো ফল হয়নি। বরং শিশুটির বাবার এমন তৎপরতার কারণে অধ্যক্ষ নাঈমের টিসি নেয়ার বিষয়ে তাকে চিঠি দেন।

শিশুটির বাবা ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রহমান ও মা ডা. নাদিরা খানম দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রায় বছরখানেক ধরে। কিন্তু কোনোভাবেই বিষয়টির সুরাহা হচ্ছে না। এদিকে এরইমধ্যে শিশুটির শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে গেছে একটি বছর।

আরও পড়ুন-‘থ্রি ইডিয়টস’ পার্ট ২ আসছে!

আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন জানান, বাডস্ রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন কার্যক্রম বাংলাদেশের সংবিধান, আইন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর মাধ্যমে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও শিশু অধিকারের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাই দেশের সচেতন নাগরিক এবং উচ্চাদালতের আইনজীবী হিসেবে এ আইনি নোটিশ পাঠানো হলো।

নোটিশ পাঠানো অন্য আইনজীবীরা হলেন: মো. জোবায়দুর রহমান, মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম, কে এম মামুনুর রশিদ, মো. আশরাফুল ইসলাম এবং শাহীনুর রহমান, মোহাম্মদ হারুন, মো. গোলাম কিবরিয়া এবং বেলায়েত হোসেন। নোটিশ প্রাপ্তির ৭ কর্মদিবসের মধ্যে শিশু নাঈম উর রহমানের ওপর চলমান অমানবিক ও মানসিক নিপীড়ন বন্ধ করতে এবং তাকে ক্লাসে ফিরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় নোটিশদাতারা উচ্চ আদালতের সম্মুখীন হবেন। 

 

ইসময়/এনআই/এমআরএম