ডিবি পুলিশের ওসি পরিচয়ে মাদকাসক্ত আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শেখ হাসিনা ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন। পরে তাকে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি মামলায় (মামলা নং-৪৮) গ্রেপ্তার দেখিয়ে লক্ষ্মীপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা, কুমিল্লা, রাজবাড়ি, সুনামগঞ্জ ও বগুড়াসহ বিভিন্ন থানায় মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।
ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, গত ২৩ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের কাপিলাতুলি গ্রামের পারভেজ (২৫) নামের এক যুবককে মাদক সেবনের সময় আটক করে থানায় নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।
এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই পারভেজের স্ত্রী আমেনা খাতুনের কাছে ফোন করেন জাকির হোসেন। তিনি নিজেকে ডিবির ওসি সোহাগ পরিচয় দিয়ে জানান, ৫০ হাজার টাকা দিলে তার স্বামী এবং আটক অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হবে। ভীতসন্ত্রস্ত আমেনা খাতুন প্রথমে ৪৪ হাজার টাকা দুই দফায় বিকাশে পাঠান।
পরদিন তিনি বিষয়টি ডিবি পুলিশ এবং থানাকে জানান। তদন্তে বেরিয়ে আসে পুরো প্রতারণার ঘটনা। ডিবি পুলিশ এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শেখ হাসিনা ব্রিজ এলাকা থেকে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের আগে জাকির তার ব্যবহৃত সিম কার্ড দুটি তিতাস নদীতে ফেলে দেন বলে জানিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর ডিবি পুলিশের এসআই মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত জাকির স্বীকার করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন থানার ওসি বা ডিবি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে আসছিলেন।
তিনি আরও জানান, প্রতারণার কৌশল হিসেবে জাকির ও তার চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগী বা সেবাপ্রার্থী সেজে বিভিন্ন থানায় যান। সেখানে তারা থানার ওসি, ডিবি কর্মকর্তা বা তদন্ত কর্মকর্তার নাম সংগ্রহ করেন এবং থানার মামলার ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে মামলার বাদী বা বিবাদীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন।
টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তারা ব্যবহার করা ফোন নম্বর বন্ধ করে দেন। এভাবে বিভিন্ন থানায় সংঘটিত মামলার আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র।
সম্প্রতি আমেনা খাতুন নামে এক বৃদ্ধ নারীর ছেলেকে মাদক মামলায় ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে দুই দফায় ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় জাকির। আমেনা খাতুনের অভিযোগ থেকেই তদন্তের সূত্র ধরে পুরো ঘটনা প্রকাশ পায়।
ডিবি পুলিশ এ বিষয়ে আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রতারক চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।