উদ্বোধনের আগে খুলনা-মোংলা রেলপথে সফলভাবে সম্পন্ন হলো পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল। সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে খুলনার ফুলতলা থেকে কোন ত্রুটি ছাড়াই ট্রেন পৌঁছায় মোংলায়।
পহেলা নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগে পুরোপুরি প্রস্তুত রেলপথটি। নতুন এ রেলপথে চলাচলের জন্য পুরো ৯১ কিলোমিটার রেল লিংকিং এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পে রূপসা নদীর ওপর ৫ দশমিক এক তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রেলসেতু রয়েছে।
এছাড়া এই প্রকল্পে তৈরি হয়েছে ১১টি প্লাটফর্ম, ১০৭টি কালভার্ট, ৩১টি ছোট ব্রিজ ও ৯টি আন্ডারপাস নির্মাণ। সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রেল চলাচলের জন্য।
আরও পড়ুন- মুষ্টিমেয় মানুষের জন্য শান্তির ধর্ম ইসলাম যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়,ইমাম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইরকন ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক গিরিশ চন্দ্র ত্রিবেদী বলেন, আমাদের রেল লিংকিংয়ের কাজ আমরা পুরোপুরি সম্পন্ন করেছি।
কিছু ফিনিসিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। যেগুলোও দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যাবে। সোমবার থেকে শুরু হলো পরীক্ষামূলক রেল চলাচল। রেলের কোথাও কোন সমস্যা দেখা দিলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো ঠিক করে দিবো।

২০১০ সালে খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। তবে নানা জটিলতা শেষে কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। অবশেষে সব কাজ শেষ হয়ে এবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা। পহেলা নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভার্চুয়ালি এ প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্বোধনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন তাদের।
আরও পড়ুন- নেত্রকোনায় ছিনতাই কারীদের গণ ধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ
প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, রেলপথটি আমরা পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পেরেছি। রোববার পরীক্ষামূলকভাবে খুলনার ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেল চলাচল করেছে। আমাদের এ প্রকল্পটি পহেলা নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।
এই প্রকল্পটি এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এ রেলপথের মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দর ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি রফতানি বাণিজ্য বাড়বে।
২০১৬ সালে শুরু হওয়া চার হাজার ২৬১ কোটি টাকা ব্যয়ের এ রেলপথটি নির্মাণ করেছে দুই ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডটি এবং ইরকন ইন্টারন্যাশনাল।
ইসময়/একে/এমআরএম