সব সময় সব খানে


শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস ফাঁকির অভিযোগ, হাজিরা খাতায় নেই স্বাক্ষর

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

>> বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ গঠন: আহবায়ক এড.ইসমাইল ও সদস্য সচিব এড.পলাশ কান্তি নাগ

>> হাতিয়ায় ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

>> সিজারিয়ানে হেলথ কেয়ার হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু, দুই সপ্তাহেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই

>> পাটগ্রাম সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযানে ইউরিয়া সার ও ভারতীয় গরু আটক

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

দেড় কোটির অধিক টাকা নিয়ে রাতের আঁধারে ফার্মেসীর মালিক উধাও


আল-আমিন হোসেন, আলম ডাঙা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

eshomoy.com || 2023-11-18 21:05:15
দেড় কোটির অধিক টাকা নিয়ে রাতের আঁধারে ফার্মেসীর মালিক উধাও

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় সুজাউদ্দীন নামের এক ফার্মেসীর মালিক রাতের আঁধারে দেড় কোটিরও অধিক টাকা নিয়ে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আলমডাঙ্গা থেকে মাইক্রো ভাড়া করে স্বপরিবারে পালিয়েছে।

আরও পড়ুন- মাইক্রো বাসে তুলে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগ

জানা গেছে, বিভিন্ন এনজিও, ঔষধ কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দেড় কোটিরও অধিক টাকা নিয়ে  মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উধাও হলে পরদিন বুধবারে ফার্মেসী বন্ধ থাকলে কেউ টের না পেলেও বৃহস্পতিবার পাওনাদাররা তার মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন  বন্ধ পাওয়াইয় একে একে পাওনাদাররা দোকানের সামনে এসে ভীড় জমায়।
 
সেই সাথে পাওনাদারগন সুজাউদ্দিনের ফার্মেসীতে একাধিক তালা মারেন। বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আলমডাঙ্গাতে টপ অফ দ্যা টাউনে পরিনিত হয়েছে। প্রতারক সুজাউদ্দিন স্বপরিবারে পালিয়ে যাওয়াতে সবথেকে বেশী বিপদে পড়েছেন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন- পশুর নদীতে ডোবা কয়লা বোঝাই কার্গো উদ্ধারে অভিযান শুরু

জানা গেছে, যশোর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড খোড়কি গ্রামের মৃত আছির আলীর ছেলে সুজাউদ্দিন আলমডাঙ্গার বাদেমাজু গ্রামের আব্দুল মান্নান ওরফে জাফরান খলিফার মেয়ের মামতো বোন মিনা খাতুনকে বিয়ে করেন। গত ২০১৭ সালের দিকে অর্থ কেলেঙ্কারির করে যশোরে টিকতে না পেরে তিনি বউ-বাচ্চা নিয়ে আলমডাঙ্গার বাদেমাজু গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে চলে আসেন।

আলমডাঙ্গায় এসে শহরের হাইরোডে মেডিসিন কর্নারের কর্মচারী  হিসেবে চাকরি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি। মেডিসিন কর্নারে দুই বছর চাকরী করেন সুজাউদ্দিন। এরপর তার শ্বশুর চাকরী থেকে অবসরে গেলে পেনশনের টাকা নিয়ে হাইরোডে রিপন ফার্মেসী নামে একটি ঔষধের দোকান চালু করে।

পার্শ্ববর্তী ফার্মেসির মালিকেরা জানান, সুজাউদ্দিনের ব্যবসা ভালই চলছিল। তিনি অন্যান্য ফার্মেসি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাস্টমার ধরার জন্য কম মূল্যে ঔষুধ বিক্রি করতে থাকেন।আস্তে আস্তে নিজের পুঁজি শেষ হয়ে গেলে বিভিন্ন এনজিও ও ডেইলি সমিতি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণে জড়ানো শুরু করেন।

এরপর  বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির এম.পি.ও. দের আন্ডার রেটেড প্রোডাক্ট বিক্রি করে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে  লক্ষ লক্ষ টাকার ঔষধ বাকিতে নিতেন। ফার্মেসি শুরুর এক বছর খুব ভালোভাবে ফার্মেসি চালায়। পরে  চড়া সুদে বিভিন্ন এনজিও, ডেইলি সমিতি, আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট, প্রতিবেশী ব্যবসায়ী ও পরিচিত জনদের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছেন।

আরও পড়ুন- আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধতে ইসিতে ৪ দলের আবেদন

বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির এম আর দের নিকট হতে মোট ২৫ লক্ষের অধিক টাকা মূল্যের ঔষধ  নিয়ে পালিয়েছে। তারমধ্যে ইবনেসিনার কাছ থেকে ৬ লক্ষ ৯০ হাজার, জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসের ৫ লক্ষ ৯০ হাজার, একমি ১ লক্ষ, নাভানা ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, বিকন ৯০ হাজার, বায়ো ফার্মার ১ লক্ষ ১৪ হাজার, নিপ্রো জেএমআইয়ের ৫০ হাজার, পপুলার  ১ লক্ষ ১০ হাজার, এসকেএফ ১৫ হাজার,  জিসকা ১৬হাজার, প্যাসেফিক ১১ হাজার, এভারেস্ট ১৬ হাজার, ড্রাগের ১০ হাজার, এপেক্স ফার্মার ৪ হাজার টাকা।

ঋণ হিসাবে  সুজাউদ্দিন ব্রাক এনজিও থেকে  নেন ৭ লাখ টাকা, একতা ডেইলি সমিতি থেকে বাড়ির দলিল রেখে ২৭ লক্ষ টাকা ও ফোর স্টার সমিতি থেকে ৭ লক্ষ টাকা নেন।

আরও পড়ুন- নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৫টি উপকমিটি গঠন আওয়ামী লীগের

ঋণ ছাড়াও সুজাউদ্দিন প্রতিবেশী ব্যবসায়ী কসমেটিক এন্ড কনফেশনারীর মালিক জহুরুল ইসলামের কাছ থেকে ৪ লক্ষ, ভাই ভাই মোবাইলের মালিক জুয়েল রানার কাছ থেকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার, আমেনা কনফেশনারীর মালিক ডাবলুর কাছ থেকে ৫০ হাজার ধার নেন।
 
এছাড়াও গোপনে তিনি চড়াসুদে অনেক ব্যাক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন যা লোকলজ্জার ভয়ে অনেক পাওনাদার ব্যবসায়ীরা মুখ খুলছেন না বলেও জানা গেছে।

 

ইসময়/রআ/এমআরএম