বাংলাদেশে ডেঙ্গুর টিকা প্রয়োগ নিয়ে চলছে নানাবিধ আলোচনা। বিশ্বের কয়েকটি দেশে টিকা প্রয়োগ শুরু হলেও এর কার্যকর ফলের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের দিকেও তাকিয়ে আছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মুহূর্তে টিকাকে গুরুত্ব না দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া উচিত। এ ছাড়া বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গবেষণাও চালিয়ে যেতে হবে। গোটা বিশ্ব অতিমারি করোনার ভয়াবহতা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। এক্ষেত্রে শুরুতে কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা গাইডলাইনও ছিল না। সব মহলেই প্রতি মুহূর্তে কেটেছে শঙ্কা আর অনিশ্চয়তায়।
আরও পড়ুন- নতুন আতঙ্ক ‘ডিজিজ এক্স’, ছাড় পাবেনা বাংলাদেশও!

নানা জল্পনা-কল্পনা আর আলাপ-আলোচনার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয় টিকা আবিষ্কার। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম ছিলোনা। অজানা এ ভাইরাসের লাগাম টেনে ধরতে টিকার ভূমিকা কতটুকু- এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে টিকাতে অনেক নিয়ন্ত্রণে এসেছে করোনাভাইরাস।
এডিস মশার দৌরাত্ম্যে বছরের পর বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তি পোহালেও গত ১০০ বছর ধরে গবেষণার টেবিল থেকেই এখনো বের হতে পারেনি টিকা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সনোফি এবং লুই পাস্তর ইনস্টিটিউটের ডেংভাক্সিয়ান টিকা শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হলেও সেটা নিয়েও রয়েছে তর্ক-বিতর্ক। যদিও এরই মধ্যে ফিলিপাইন, পুয়ের্তোরিকো ও সিঙ্গাপুরে প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন- ডেঙ্গুর নতুন উপসর্গের হানা, ২৫ মৃতের ১৪ জনই শিশু
বাংলাদেশেও গত দুই দশক ধরে চোখ রাঙাচ্ছে এই ডেঙ্গু। ২০১৯ সালের পর আবারও অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৬৪ জন (১০ আগস্ট পর্যন্ত)। এ অবস্থায় টিকা নিয়ে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবনা কি?

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. শাহাদাত হোসেন এর কার্যকারিতার প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কিছু দেশ এটির অনুমতি পেয়েছে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমতি দিলে আমরাও শুরু করি। তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনও নানা মহলে চলছে আলোচনা। কিন্তু আমাদের দেশে এটি কার্যকরী হলে অবশ্যই আমরা ব্যবহার করব। আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে এখনো।’
তবে চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে টিকা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছে, গুরুত্ব দিতে হবে এডিসের লার্ভা ধ্বংসের অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে।
আরও পড়ুন- বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় এশিয়ায় ১ম, বিশ্বে ৫ম : জাহিদ মালিক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান খসরু জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য ভ্যাকসিন সহায়ক হতে পারে। কিন্তু এখন যে অবস্থা, তাতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, মৃত্যু বাড়ছে। এরজন্য তো ভ্যাকসিন আলোচনার বিষয় না। আগে থামাতে হবে রোগীর সংখ্যা।

একই সাথে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিনেশন পদ্ধতির যেকোনো একটি ট্রায়ালে যুক্ত হওয়ার পরামর্শও দেন এ গবেষক। তিনি জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি আলাদা আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়নের কাজ করতে হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) আরও ১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মারা গেলেন ৩৬৪ জন। এ ছাড়া সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২ হাজার ৯৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আরও পড়ুন- উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম
এবছর এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৭৮ হাজার ২৮ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ঢাকায়ই ৩৯ হাজার ৯১১ জন এবং ঢাকার বাইরে ৩৮ হাজার ১৭৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

আরও পড়ুন- ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর দ্বায়সারা হিসাব?
ই-সময়/আরএম/এমআরএম