শামীম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সাকল্যে তাঁর মাসিক আয় ৭৫ হাজার টাকা। দুই সন্তান, স্ত্রী এবং মাকে নিয়ে থাকেন রাজধানীর উত্তরায়। মা ক্যান্সারে আক্রান্ত।
ক্যান্সার সাপোর্টিভ কেয়ারের একটি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ পেগফিলগ্রাস্টিম। শামীমের মাকে প্রতি মাসে এ ওষুধ দিতে হয়। ওষুধটি এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। গত বছর যখন প্রথম এ ওষুধ শামীম কেনেন, তখন এর দাম ছিল ৮ হাজার টাকা।
এখন ১৫ হাজার টাকা।
শামীম এখন বিপর্যস্ত, অসহায়। কিভাবে এ ব্যয়বহুল ওষুধ কিনে মায়ের চিকিৎসা করবেন, তার কোনো কূলকিনারা পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে তাঁকে ধার করতে হচ্ছে।
শামীম বলছিলেন, ‘না খেয়ে থাকা যায়, কিন্তু একজন মুমূর্ষু রোগীকে ওষুধ না দিয়ে কি বাঁচানো যায়?’ শামীম একা নন। এ রকম হাজারো পরিবারের একই অবস্থা। ওষুধের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাঁরা দিশাহারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে।
বছরে ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, যারা মারা যাচ্ছে তাদের বেশির ভাগই বিনা চিকিৎসায় অথবা মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করার কারণে। ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির জন্য আগে দেশে ওষুধ উৎপাদন হতো না। বিদেশ থেকে আমদানি করা ওষুধের ওপর নির্ভরশীল ছিল আমাদের দেশের রোগীরা। ১৫ বছর আগেও ক্যান্সার রোগীদের বিদেশি ওষুধের ওপর প্রায় পুরোপুরিই নির্ভর করতে হতো। এর ফলে একদিকে যেমন এসব ওষুধের জন্য বছরে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতো, অন্যদিকে অনেক রোগীর পক্ষেই ব্যয়বহুল এসব ওষুধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। তবে চিত্র বদলেছে। দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যান্সারের ওষুধ উৎপাদনে এগিয়ে আসছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ক্যান্সারের ওষুধের প্রায় ৯৫ শতাংশ চাহিদাই পূরণ করছে। কিন্তু দেশে উৎপাদিত এসব ওষুধের দাম কতটা ন্যায়সংগত? কতটা মানুষের নাগালের মধ্যে? সরকার এসব ওষুধ উৎপাদন এবং কাঁচামাল আমদানির ওপর কর ও শুল্ক মওকুফ করেছে। তার পরও এসব ওষুধের দাম বাড়ছে নিয়ন্ত্রণহীন। পেগফিলগ্রাস্টিমের দামের কথাই ধরা যাক। কোম্পানিভেদে এর দাম ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা। ভারত এ ওষুধের দাম দেড় হাজার রুপি।
বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার টাকার কিছু বেশি। প্রশ্ন হলো— ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে ওষুধের মূল্য এত বেশি হওয়ার কারণ কী? কারণ হলো ওষুধের মূল্য নির্ধারণে সরকারের ব্যর্থতা এবং কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেট। সরকারের আইন অনুযায়ী, ওষুধের দাম নির্ধারণ করার কথা ওষুধ প্রশাসনের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রধান কাজ হলো ওষুধের মান