হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের হুরগাও গ্রামের ব্যবসায়ী হারুন আহমেদ জমিদার হত্যা মামলায় ৭ আসামীর মৃত্যুদন্ড ও ১০ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে মামলায় নির্দোশ প্রমাণিত হওয়ায় ২২ জন আসামীকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক আজিজুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রত্যেক আসামীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, একই গ্রামের জালাল আহমেদ, রুহুল আলম মিলন, ফজল মিয়া, কুতুব আলী, রফিক মিয়া, জাকির হোসেন, আব্বাস মিয়া এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, ছায়েদ আলী, নিমতাজ আলী, মতলিব মিয়া, কুতুব উদ্দিন, সালাম মিয়া, জিয়াউর রহমান, আয়াত আলী, ইছাক আলী, জজ মিয়া ও ইব্রাহিম মিয়া। মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক আজ রায় ঘোষণা করেন। এদিকে, রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙণে আসামীর স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মামলায় খালাস পাওয়া আসামীরা হলেন, ‘কাজল মিয়া, জলফু মিয়া, ভিংরাজ, নফল উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, অনু মিয়া, ছনু মিয়া, ফারুক, জামাল মিয়া, আব্দুল্লা, আইয়ুব আলী, কদর আলী, আব্বাছ, আজিবুর রহমান, মাহবুবুর রহমান,ছালেক মিয়া, সিরাজ মিয়া, জাহির মিয়া, আব্দুল হাই, আব্দুল মালেক, তাইবুল ও আহাদ মিয়া।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, সদর উপজেলার হুরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি মেম্বার মিলন আহমেদ ও হারুন আহমেদ জমিদারের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০০৩ সালে ইউপি নির্বাচনের পর এ বিরোধ আরও তীব্র হয়। ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে হারুন আহমেদসহ ৭-৮ জন নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল আহমেদকে দাওয়াত দিতে যান। এ সময় পথে মিলন আহমেদের নেতৃত্বে ৪০-৫০ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এক পর্যায়ে হারুণ আহমেদ জমিদারকে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে আসামীরা। এতে ঘটনাস্থলেই হারুন আহমেদ জমিদার মারা যান। তার শরীরে ৩২টি ফিকলের (সুচালো অস্ত্র) আঘাতের চিহ্ন পায় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সুমন আহমেদ বাদী হয়ে সদর থানায় ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
মামলার বাদি নিহত হারুন আহমেদ জমিদারের ভাই সুমন আহমেদ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি দন্ড প্রাপ্ত আসামীদের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন।
হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, মামলায় ৪৭ জন আসামীর মধ্যে ৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল রায়ের সময় আদালতে ৩৯ জন আসামী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ৭ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয় এবং ২২ জনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। এতে মামলায় রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।