কুড়িগ্রামের রাজারহাটের নাজিম খাঁ ইউনিয়নের শরফ উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় জমিদাতার কবরে ময়লা আবর্জনা ফেলাকে কেন্দ্র করে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার গোলাম হক্কানী কর্তৃক মিথ্যা মামলা দিয়ে জমিদাতার আত্মীয় স্বজনদের হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখাঁ ইউনিয়নের শরফ উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা স্থাপনের সময় ঐ এলাকার শরফ উদ্দিন ও রইচ উদ্দিন নামে এলাকার দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদ্রাসায় জমি দান করেন এবং জমিদাতা রইচ উদ্দিন মৃত্যুকালে তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও তার আত্মীয় স্বজনদের বলেন মৃত্যুর পর তাকে যেন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কবর দেয়া হয়।
জমিদাতা রইচ উদ্দিনের মৃত্যুর পর তাকে মাদ্রাসার জমিতে কবর দেয়া হয়। মাদ্রাসার জমিদাতা রইচ উদ্দিনের কন্যা রেজিয়া বেগমের বোন অছিরন বেগম মাদ্রাসায় আয়ার চাকুরী করার সময় ঐ কবর সব সময় পরিস্কার রাখা হলেও চাকুরী অবসর গ্রহন করার পর কবরটি পরিস্কার রাখার পরিবর্তে সেখানে বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা ফেলতে শুরু করে এবং কবরটি ডাস্টবিনে পরিনিত করেছে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন- মাধবপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা, মেরে ফেলার হুমকি
এই সুত্রে গত ৭ জুলাই জমিদাতা মৃত রইচ উদ্দিনের কন্যা রেজিয়া কবরটি পরিস্কার করতে গেলে সেখানে ফেলা ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে সময়ের অভাবে পরের দিন দুরে ফেলার জন্য কবরের পাশে রেখে দিলে মাদ্রাসার অপর জমিদাতা শরফ উদ্দিনের আত্মীয় আইসিটি শিক্ষক মাইদুল ইসলাম লিটন ও অফিস সহায়ক জিয়াউর রহমান মাদ্রাসার জমিদাতার কন্যা রেজিয়া ও তার স্বামী ফজলুল হককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং রেজিয়াকে পাইলে মারপিট করবেন বলে হুমকি দেয়।
এরপর মাইদুল ও জিয়াউর ঐ ঘটনার পর ৯ জুলাই রেজিয়া বেগম রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ তাকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে ভিডিও ধারন করে। তবে ভিডিও তে কি ভিডিও করেছে তা জানা যায়নি। পরে রেজিয়া বেগমের আর্ত চিৎকারে তার আত্মীয় ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে। পরে রেজিয়ার আত্মীয় স্বজনরা বিষয়টি এলাকার মান্যগন্য ব্যক্তিদের জানালে তারা বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে মিমাংসা করার আশ্বাস দেন।

এদিকে, সেদিনের ঘটনার পর কোন বৈঠক বা মিমাংসা হতে না হতেই ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী রেজিয়া বেগম প্রতিদিনের মত পরদিন সকাল ৭ টায় রাস্তা দিয়ে হাটার সময় হাজির তেপতি নামক স্থানে গেলে মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষক মাইদুল ইসলাম লিটন, তার পিতা আব্দুস সালাম, মামা আবু বক্কর সিদ্দিক, খালা রাজিয়া বেগমসহ কয়েকজন আবারও অতর্কিতভাবে শ্লীলতাহীন করে মারপীট করতে থাকে। তার আর্ত চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে রেজিয়াকে উদ্ধার করে বাড়ীতে পৌছিয়ে দেয়। পরে ১৩ আগস্ট রেজিয়া বেগম কুড়িগ্রাম আদালতে মাইদুল ইসলাম লিটন সহ ঘটনায় জড়িতদের নামে একটি মামলা দায়ের করে।
এই মামলা করাকে কেন্দ্র করে উক্ত মাইদুল ইসলাম লিটন ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার গোলাম হক্কানীকে দিয়ে জমিদাতার কন্যা রেজিয়া বেগম, স্বামী ফজলুল হক, প্রতিবন্ধী ছেলে রেজাউল ইসলাম হারুন ও তার মেয়ের জামাই সাদিকুল ইসলামকে দিনে-দুপুরে মাদ্রাসার কাগজপত্র ও ল্যাপটপ চুরির দায়ে আসামী করে আদালতে পাল্টা একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানী করছে।
আরও পড়ুন - মদনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত দুইজন
এলাকাবাসীর সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হলে তারা বলেন, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়েরকৃত মামলাটি সাজানো এবং ভিত্তিহীন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলায় কবরে ময়লা আবর্জনা ফেলাকে কেন্দ্র করেই সকল ঘটনার সুত্রপাত এবং আইসিটি শিক্ষক মাইদুল ইসলাম লিটনকে বাঁচাতেই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার গোলাম হক্কানী নিজেই বাদী হয়ে আদালতে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে প্রতিবন্ধী হারুন বলেন, শফর উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার জমিদাতা আমার নানা। আমার নানার সমাধী কবরস্থান ঐ মাদ্রাসায় রয়েছে। একজন জমিদাতার কবরস্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলে তারা কোন ধরনের তোয়াক্কা না করে আবার আমাদেরকেই মিথ্যা অপবাদে চোর আসামী বানিয়েছে। আমরা আইনের কাছে সঠিক বিচার চাই।
আরও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উক্ত মাদ্রাসার সুপারকে জোরপুর্বক মাদ্রাসায় আসতে বাধা প্রদান করে এবং কোন বৈধ কমিটির নির্দেশ ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন গোলাম হক্কানী।
মাদ্রাসার সুপার কর্তৃক হাইকোর্টে মামলা চলমান এবং বর্তমানে মাদ্রাসার কোন নির্বাচিত কমিটি নেই। শুধু তাই নয় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার গোলাম হক্কানী, আইসিটি শিক্ষক মাইদুল ইসলাম লিটনকে বাদী করে আবারও তাদেরকে আসামী বানিয়ে থানায় অভিযোগ করে মামলা রেকর্ডের পায়তারা করছেন।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার গোলাম হক্কানীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ইসময়/আরএম/এমআরএম