জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমুল পরিবর্তন এসেছে মানুষের জীবন জীবিকায়। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় ফুলছড়ি চরাঞ্চলের মানুষ কৃষি ছেড়ে গবাদিপশু পালনে মনোযোগী ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমুল পরিবর্তন এসেছে মানুষের জীবন জীবিকায়। নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় নিত্যনতুন পেশা বেছে নিচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে কৃষিতে জলবায়ু প্রভাবে কৃষি কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুকছে চরাঞ্চলের মানুষ। কখনো অসময় নদী ভাঙ্গন বন্যা কিংবা খরা। আবার কখনো কখনো আগাম শীতের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে দিন দিন বিকল্প পেশাকে চরাঞ্চলের মানুষ।
আরও পড়ুন-অক্টোবরে ৪২৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৭ জন নিহত- যাত্রী কল্যাণ সমিতি
ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, 'আমরা আগে বইয়ের পাতায় ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ পড়লেও বর্তমানে প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে। জলবায়ু কারণে কাল পরিক্রমার বদল হয়েছে। কেননা গত কয়েক বছর ধরে আশানুরূপ বন্যা নেই। মৌসুমে হচ্ছে প্রচুর বৃষ্টিপাত। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র, যমুনায় বন্যা মৌসুমে হচ্ছে নাব্যতা সংকট'।
ঝুঁকি এড়াতে কৃষি নির্ভর চরের মানুষ গুলো পেশাবদল করে গবাদিপশু পালনে তাদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। কেননা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিকল্প কিছু ভাবা ছাড়া উপায় নেই।

মোঃ গোলাম মওলা বলেন, 'আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম প্রকল্প শেষ হওয়ায় আমার চাকরি শেষ হয়ে যায়। যখন দেখলাম আমার সংসার চালানো কষ্ট হচ্ছে, তখন চিন্তা করি আমি গরু পালন করব তখন আমি প্রথমিক ভাবে ৪ টি গরু কিনি এখন আমার গরু বিক্রির টাকা দিয়ে একটি ১০০০ লেয়ার মুরগির খামার তৈরি হয়েছে।'
ট্যাংরা কান্দি চরের আইলা বেগম বলেন, 'কয়েক বছর আগে চরের হাতে গোনা কয়েকটি বাড়িতে হাঁস মুরগি ও গরু-ছাগল পালন করতো। এখন চরের অধিকাংশ বাড়িতে গরু ছাগল, ভেড়া মহিষ পালন করছে। এছাড়াও অল্প পুঁজিতে অধিক লাভের আশায় গতানুগতিক খামার ছেড়ে ভেড়া প্রজাতির দারুন উন্নত জাতের ছাগল দেশি গরু পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বিকল্প কিছু ভাবা ছাড়া উপায় নেই ।'
আরও পড়ুন-মাধবপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
একই এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, 'আবহাওয়ার কারণে চড়ে এখন কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষকে। অসময়ে বন্যা খড়ার কারণে কৃষিতে তেমন ফসল ফলে না। তাই এই চরের মানুষের গবাদি পশু পালনের আগ্রহ বেড়েছে। একটি গরু পালন এক বছর পর বিক্রি করলে খরচের তুলনায় লাভ হয় মোটামুটি, কিন্তু একটা ছোট মহিষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে লালন পালন করে বছর শেষে প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা বিক্রি করা যায়। মহিষের জন্য আলাদা করে ফিড, ভিটামিন, ভুস, খড় কিনতে হয় না। ফলে স্বভাবে বেশি লাভ হয় মহিষে।'
চরের প্রতিটি বাড়ির লোকজন এখন পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা: জহিরুল্ ইসলাম বলেন,'ফুলছড়ির চরাঞ্চলের মানুষ জলবায়ু প্রভাবের ফলে জীবিকায় পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে , অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগ মোকাবেলা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়াতে দিন দিন গবাদি পশু পালনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের জমিগুলো গবাদি পশু পালনের জন্য বেশি উপযোগী ফলে এক বছরে তুলনায় গরু ,মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও গাড়ল পালনের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব মানুষকে দোরগোড়ায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়াই গবাদি পশু পালনে আস্থাশীল হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি ।'
আরও পড়ুন-নবীগঞ্জে বিস্ফোরকের ঘটনায় আসামীসহ তিনজন গ্রেফতার
ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ বলেন, 'সমাজে অনেক পরিবর্তন আসবে। লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষ নতুন ভাবে জীবন শুরু করবেন। বর্তমানে চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তারা, বেঁচে থাকার প্রয়োজনে নতুন নতুন পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই পুরনো পেশায় ফিরতে পারবেন না।'
ইসময়/এনআই/এমআরএম