"স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ি, ভোক্তার স্বার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করি" – এ স্লোগানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২৪ উদযাপন করা হয়েছে।
১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি মার্কিন কংগ্রেসে ভোক্তাদের বিভিন্ন অধিকার নিয়ে বক্তব্য দেন।
যার স্মরণে ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
কেনেডির ভাষণের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৫ মার্চ'কে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস নামকরণ করে বৈশ্বিকভাবে পালন করা হয়।
যার ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার (১৫ মার্চ ২০২৪ইং) সকাল ১১ টায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল অব কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি) ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির যৌথ সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন এসবের আয়োজন করে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দিবসটির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, খাগড়াছড়ি জেলা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাসরিন আক্তার।
আরো পড়ুন>খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে সনাক-টিআইবির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত
সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মংক্যচিং চৌধুরী, সহকারি পুলিশ সুপার সৈয়দ মুমিদ রায়হান, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শানে আলম, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা ইসলাম, খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ শাহ আলম, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ এরফান উদ্দিন, খাগড়াছড়ি জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সুদর্শন দত্ত, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি সাংবাদিক আবু তাহের মুহাম্মদ, কাউন্সিল অব কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি) খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, দৈনিক আলোকিত পাহাড় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক মুহাম্মদ সাজু, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
উক্ত সভায় খাগড়াছড়ি শহরের একটি হোটেলে হারপিক দিয়ে নাস্তা প্লেট পরিষ্কার করা, জেলার কয়েকটি উপজেলার কিছু বেকারি দোকানে ময়লা অপরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা, পঁচা ডিম দিয়ে বিস্কুট তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষুধ বিক্রি করার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেন, শুধু জরিমানা নয় বরং এ ধরণের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোর তম আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে কারাদন্ড প্রদান করে জেলে পাঠানো হবে বলে জানান। তিনি সবার উদ্দেশ্যে আরও বলেন, শুধু কারাদন্ড বা জেলে এবং জরিমানায় মিমাংসা হয় না। এসব ব্যাপারে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং কাজ করতে হবে।
তিনি ব্যবসায়ীদেরকে আস্বস্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী বান্ধব সরকার।
ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়, আমরাও চাই না। তাই সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করলে আমরা ভোক্তাদের চাহিদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা-
রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা শক্তিশালীকরণ এবং ভোক্তাদের জনসচেতনতা সৃষ্টির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আলোচনা রাখেন।