ঈদের ছুটি কাটিয়ে বরিশাল নৌ-বন্দরে কর্মস্থলমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পবিত্র ঈদুল ফিতরের চতুর্থ দিন দুপুর থেকেই বরিশাল নৌ-বন্দরে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দুপুর থেকে ভিড় বেড়ে কয়েকগুণ হয়ে যায়।
আগে থেকেই নদীপথে যাত্রীদের নিরাপদে রাজধানীতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে ১৩ টি নৌ যান ঘাটে রয়েছে। এরমধ্যে দুপুর ৩টার দিকে গ্রীন লাইন ও সাড়ে ৩ টার দিকে এম.ভি রাজারহাট-সি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়।
এদিকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে না হতেই বহু লঞ্চের ডেকের জায়গা ভরে গেছে যাত্রীদের উপস্থিতিতে।
রবিবার দুপুরে বরিশাল নদী বন্দরে দেখা গেছে, বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের ১৪ টি লঞ্চ বার্দিং করে রাখা হয়েছে পল্টুনে। এসব লঞ্চে পছন্দসই জায়গা করে নিচ্ছেন যাত্রীরা।
রবিবার বরিশাল নৌ বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে সুরভী ৭-৯ এ্যাডভেঞ্চার ৯, সুন্দরবন ১৬, সহ মোট ১০ টি বেসরকারী লঞ্চ রয়েছে।
অপরদিকে, যাত্রীদের নিরাপত্তার লক্ষে নৌ-বন্দরের প্রবেশদ্বার গুলোতে নিরাপত্তা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নৌ-বন্দরের সামনের সব সড়কে যানবাহন চলাচল ওয়ান ওয়ে করা হয়েছে। টার্মিনাল জুড়ে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, আনসার বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীতে নৌ-পুলিশের সদস্যরা টহল দিচ্ছে।
এছাড়া কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে সে লক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা নজরদারি রাখছেন। পাশাপাশি যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের দিক নির্দেশনায় স্কাউট, মেরিন কলেজের শিক্ষার্থীরা বন্দর এলাকায় তাদের কাজ করছে।
বরিশাল নৌ-বন্দরে লঞ্চের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরের থেকে এ বছর লঞ্চে ঢাকা মুখী মানুষের ভিড় অনেক।
রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় বাড়তে পারে বিধায় আগে থেকেই বরিশাল থেকে বাড়তি লঞ্চ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুরভী-৯ লঞ্চের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা আক্তার হোসেন।
তবে যারা ছুটি না পেয়েও নারীর টানে দক্ষিণাঞ্চলে ঈদ করতে এসেছেন তাদের অনেকেই শনিবার অফিসে যোগদান করেছেন। এ কারণেই ঈদের পরের দিন (শুক্রবার) থেকেই বরিশাল নদী বন্দর এবং পরিবহনে যাত্রীদের চাঁপ ছিলো।
লঞ্চ এবং নদী বন্দর সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, এবারের ঈদে কয়েক লাখ মানুষ বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে এসেছেন স্বজনদের সাথে ঈদ উদ্যাপন করতে। বরিশাল নদী বন্দরে ঢাকায় যাত্রা করতে অপেক্ষমান খলিলুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি শেষ। তাই কর্মস্থলে হাজিরা দিতে হবে তাই আগেভাগেই বরিশাল ত্যাগ করছি।
বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক আমাদের বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনও লঞ্চ না ছাড়ে। এছাড়াও আমাদের সার্বিক সহায়তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে।