পটুয়াখালীর গলাচিপার উপজেলার চরবিশ্বাস হাজী কেরামত আলী ডিগ্রি কলেজের (কেআলী) প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. মিজানুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক'ই প্রতিষ্ঠানে ল্যাব সহকারি রাকিবুল হাসান এর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় প্রতিনিধি ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার বজায় রাখার কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান। এ ঘটনার পরে কলেজটিতে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন-এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ নিয়ে নতুন নির্দেশনা
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের হাজী কেরামত আলী ডিগ্রি কলেজে গত ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। কিন্তু এর পর থেকেই কলেজটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র হয়। মামলা পাল্টামামলা এবং অফিস তালা দেওয়ার মতো ঘটনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন, 'কলেজটি এমনিতেই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জড়িত। অনিয়ম যেন পিছু ছাড়ছে না। তাই কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের মুভমেন্ট রেজিস্টার মেন্টনেইনেস করতে বলা হয়। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মচারী। সে আমার সাথে বিভিন্ন বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং আমাকে লাঞ্ছিত করে।'
এবিষয়ে ল্যাব সহকারী রাকিবুল হাসান বলেন, 'আজ সকালে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. মিজানুর রহমান কলেজে আসেন। কলেজে আমাদের অফিস রুমে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এ নিয়ে আমি তাকে প্রশ্ন করি। এতেই সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার গায়ে হাত তোলেন বলে তিনি ঘটনার দ্বায়ভার এরিয়ে যান।'
আরও পড়ুন- " জাগ্ৰত হোক বিবেকবোধ" বইটি সাংবাদিকদের হাতিয়া তুলেদিলেন ওসি জিসান আহমেদ
হাজী কেরামত আলী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'আমি কলেজে ছিলাম না। ল্যাব সহকারী রাকিবুলের সাথে পরিচালনা কমিটির সদস্য মিজানুরের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এরপরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, এটা দুঃখজনক।'
এ বিষয়ে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ডাক্তার শাহিন ইবনে রহমান বলেন, 'দীর্ঘ দিন ধরে কলেজটিতে অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব না বুঝিয়ে দিয়ে আইসিটি প্রভাষক মো. জাহিদুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া কলেজে জাহিদ সহ কয়েকজন মিলে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ তৈরি করে নৈরাজ্য পরিবেশ বিরাজ সৃষ্টি করে এ গ্রুপটিই কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।'
আরও পড়ুন-দশমিনায় শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে কর্মস্থলে না থেকেও আগাম স্বাক্ষর দিলেন এক শিক্ষিকা!
তিনি আরো বলেন, 'ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জাহিদুল ইসলামকে গত অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ অব্যাহতি দেওয়া হলেও সে কাগজ-পত্র বুঝিঁয়ে না নিয়ে পেশিশক্তি ব্যবহার করছেন। এছাড়া ইতিমধ্যে আমরা রেজুলেশন করে তাকে (জাহিদুল ইসলামকে) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে ল্যাবসহকারী পরিচালনা পর্ষদের সাথে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তাও আমি শুনেছি। অবশ্যই তদন্ত কমিটি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।'
ইসময়/এনআই/এমআরএম