পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখলা ইউনিয়নের পশ্চিম তাফালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদে চার প্রার্থীর অবৈধ নিয়োগে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের অর্থ বাণিজ্যের ঘটনায় স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ ও দূর্নীতির ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে তোলপাড় হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কর্মকর্তাদের টনক নড়েনি, এ যেন অবৈধকে বৈধ বলা সমাজে একটি প্রচলিত নিয়োম হয়ে দাড়িয়েছে বলে স্থানীয়দের মতামত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম তাফালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহায়ক, অফিস সহায়ক এবং পরিচ্ছন্ন কর্মী সহ মোট চারজন কে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী সকল কিছু নিয়োম অনুযায়ী চারটি পদের জন্য ব্যাংক ড্রাফ সহ মোট ৬০ জন আবেদন করেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক মোঃ মুজিবুর রহমান ও সভাপতি হাজি আব্দুল মান্না অর্থ লোভে কাউকে কিছু না জানিয়ে গত ১ জানুয়ারি ২০২৩ ইং তারিখে গোপনে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন- ফিলিস্তিনে ইসরাইলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে নড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল
এসময়ে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী মোঃ রিয়াজ অবৈধ নিয়োগের বিষয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞ আদালতে মামলা দ্বায়ের করলে, বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে গত ১৬/১/২৩ইং তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন নিয়োগ প্রক্রিয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বিজ্ঞ আদালতকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে গোপনে আবেদন প্রার্থীদের না জানিয়ে, সাজানো নিয়োগ বোর্ড বানিয়ে ১০/১০/২৩ইং তারিখে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী মোঃ ইলিয়াস মাহমুদ, অফিস সহায়ক পদে মোঃ ইব্রাহীম ও পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে রিনা গণিপতিকে নিয়োগ প্রদান করেন এবং এমপিও ভূক্ত করার জন্য অনলাইন আবেদনও করেন, তখন'ই জনসাধারণের মাঝেঁ সমালোচনার ঝড়বৈতে শুরু করে।

এবিষয়ে বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ও বিভিন্ন পদে আবেদন প্রার্থীদের স্বাক্ষরিত বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বরিশাল অঞ্চল বরিশাল বরাবর, গলাচিপা উপজেলাধীন পশ্চিম তাফালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় অবৈধ নিয়োগ এর বিষয়ে সরজমিন তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী অবৈধ নিয়োগ বাতিল সহ প্রাধান শিক্ষকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান। অভিযোগ দাখিল করেন। এবিষয়ে অভিযোগ কারীরা বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি এ নিয়োগ দেখিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে চার জনকে নিয়োগ দেন বলে সহকারী শিক্ষক ও নিয়োগ প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, অফিস সহকারী আবেদন প্রার্থী মোঃ জাকারিয়া, সহ স্থানীয় জনসাধারণ।তারা অবৈধ নিয়োগ বাতিল সহ প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানা।
এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ মুজিবর রহমান এর কাছে বিজ্ঞ আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি করেছেন জান্তে চাইলে তিনি, প্রথমে কথা বলতে রাজি হলেও, পরবর্তীতে অসুস্থতাজনিত কারনে বরিশাল আছেন বল্লেও, তাকে গলাচিপা সদরে তাকে বাসায় পাওয় গেলে, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নিয়োগ প্রসংঙ্গ এরিয়ে বিভিন্ন লোক দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য ব্যার্থ চেষ্টা করেন।
অন্যাদিকে সভাপতি হাজি আব্দুল মন্নান এর সাথে বহুবার চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যম এর ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি হননি। বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বরিশাল অঞ্চল এর মোঃ আনোয়ার হোসেন এর কাছে মুঠোফোন বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে, তিনি বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
আরও পড়ুন- স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
ইসময়/আরএম/এমআরএম