সব সময় সব খানে


মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> সিরাজগঞ্জে আমবোঝাই ট্রাক খাদে, ব্যবসায়ী নিহত

>> তাড়াশে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

>> বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে আর ফেরা হলো না সিয়ামের

>> খাল খনন শেষে বিপুল পরিমাণে টাকা ফেরত দিয়ে প্রশংসা কড়িয়েছেন দুই ইউএনও

>> হাতীবান্ধায় ফিলিং স্টেশনে মিলছে না পেট্রোল-অকটেন, কর্তৃপক্ষের দাবি ‘সরবরাহ বন্ধ’

>> বকশীগঞ্জে ২০০ অসহায় পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ

>> সিরাজগঞ্জে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী গুরুতর আহত, ঢাকায় রেফার্ড

>> সিরাজগঞ্জে বাস চালককে জরিমানা করায় সড়ক অবরোধে বাজার স্টেশনে তীব্র যানজট

>> বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) অনুমতি ছাড়াই রায়গঞ্জে চলছে ‘মিনি পেট্রোল পাম্প

>> মাত্র এক হাজার টাকার বিরোধে যুবককে হত্যা মামলার মূল আসামি শাহীন গ্রেফতার

আপনি পড়ছেন : পটুয়াখালী

বাউফলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ও ইজারাদাররা!


ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, পটুয়াখালী।

eshomoy.com || 2024-03-29
বাউফলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ও ইজারাদাররা!

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে ১৫ দিন ধরে ঢাকাগামী ও ঢাকা থেকে বাউফলগামী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন লঞ্চ মালিকেরা। এতে বাউফল ও দশমিনা উপজেলার সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, ঘাট ইজারাদার ও শ্রমিকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মব্যস্ত ঘাটগুলোতে শুনশান নিরবতা বিরাজ করছেন। নেই কোনো হাক-ডাক, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিকেরা। অলস সময় কাটাচ্ছেন ইজারাদারেরা।

আরও পড়ুন, ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

লঞ্চঘাট ইজারাদার ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালাইয়া, নিমদী, নুরাইপুর ও ধুলিয়া লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে ঢাকার সঙ্গে নৌপথে লঞ্চ চলাচল করে। বাউফল এবং দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যাত্রী যাতায়াত ও ব্যবসায়ীরা কম খরচে নিরাপদে পণ্য পরিবহন করে থাকেন। ঘাটগুলোতে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী সংখ্যা কিছু কমেছে। তারপরেও ৩০০ থেকে ৩৫০ যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করেন। তবে গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেন লঞ্চ মালিকেরা। টানা ৭ দিন বন্ধ থাকে লঞ্চ। এরপর ১৬ দিন চলাচল করার পর আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ কালাইয়া ঘাট থেকে এমভি বন্ধন-৫ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে আর কোনো লঞ্চ ঢাকা থেকে আসেনি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

আরও পড়ুন, চৌগাছায় গোয়ালে আগুন দুই গরুর মৃত্যু

মোঃ জামাল নামে এক যাত্রী বলেন, আমার বাবা অসুস্থ। ঢাকাতে নিয়মিত চিকিৎসার জন্য চেকআপ করাতে নিতে হয়। লঞ্চ বন্ধ থাকায় খুব ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। অ্যাম্বুলেন্সে নিতে ব্যয় বেশি ও দুঘর্টনার ঝুঁকি আছে। সোবহান নামের আরেক যাত্রী বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে লঞ্চে ঢাকা যাত্রা আরামদায়ক ও নিরাপদ। লঞ্চ বন্ধ থাকায় গাড়িতে যেতে হচ্ছে এতে ব্যয়ও বাড়ছে জার্নি করতেও কষ্ট হচ্ছে। ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ সহজ ও সুন্দর করতে শীঘ্রই লঞ্চ চালুর দাবি যাত্রীদের। ঢাকা থেকে মুদি, পোশাক, ইলেকট্রনিকস, ফলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হত। একই সঙ্গে বাউফল থেকে মাছসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য কম খরচে ঢাকায় পরিবহন করা হত। লঞ্চ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

আরও পড়ুন, কক্সবাজারে যাত্রী সেজে সিএনজি চালককে অপহরণ, ৫দিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধারকরল র‍্যাব

কালাইয়া বন্দরের পোশাক ব্যবসায়ী মোঃ হেলাল বলেন, সামনে ঈদ। ইতোমধ্যে ঈদের বেচাকেনা বাড়ছে। ঢাকা থেকে লঞ্চে পোশাক আনা সহজ ও পরিবহন খরচ কম। লঞ্চ বন্ধ থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর শহরের ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী  সুভাশ বাবু বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকা থেকে লঞ্চে মালামাল পরিবহন করে আসছি। ঢাকা থেকে লঞ্চে তুলে দিলে পরের দিন দোকানে পৌঁছে দেয় ঘাট শ্রমিকেরা। লঞ্চ বন্ধ থাকায় গাড়িতে মালামাল আনতে হয়। অনকে সময় গাড়ির ঝাঁকুনিতে মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। লঞ্চ বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকেরা অর্থ সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। কালাইয়া ঘাটের শ্রমিক সরদার মোঃ কালু বলেন, লঞ্চ বন্ধ, তাই কাজও বন্ধ এতে আমার সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে। 

আরও পড়ুন, গুরুদাসপুরে পুকুর খনন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা - সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী

কালাইয়া লঞ্চঘাট ইজারাদার মোঃ শামিম হোসেন বলেন, লঞ্চ বন্ধ থাকায় ঘাট স্টাফ নিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছি। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকার লোকসান হচ্ছে। নিমদী, নুরাইপুর ও ধুলিয়া ঘাটেও একই অবস্থা। এসব ঘাটের ইজারাদারেরা বলেন, বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা লাভ করে নিয়েছেন লঞ্চ মালিকেরা। এখন যাত্রী কম থাকায় তারা লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা হতে পারে না। এ বিষয়ে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই রুটে চলাচলকারী এমভি ইগল লঞ্চের সুপারভাইজার মোঃ বাদশা মিয়া বলেন, ঈগল-৮ যান্ত্রিক ত্রুটি ও ঈগল-৫ সংস্কার কাজ চলায় বন্ধ রয়েছে। কাজ শেষ হলেই লাইনে ফিরব। আর এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মোঃ সজল ও এমভি সাব্বির-২ লঞ্চের সুপারভাইজার সুমন বলেন, যাত্রী কম। যে যাত্রী হয় তাতে মালিকের লস হয়। তাই লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে ঈদের আগে চালু হবে। তবে ঠিক কবে চালু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না তারা। 

আরও পড়ুন, সিংড়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর আগুনে পুড়ে ছাই

পটুয়াখালী নদী বন্দরের পরিবহন পরিদর্শক দিনেশ কুমার সাহা বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ আছে এটা সত্য, কেন বন্ধ আছে সেটা আমি জানি না, এ ব্যাপারে আমরা আফিসকে জানিয়েছি। লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন, শেখেরচর বাবুরহাট আগুন; ৩২টি কাপড়ের দোকান পুড়ে ছাই