সব সময় সব খানে


বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

১ আশ্বিন ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> কালাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্ভোধন

>> মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ, আখক্ষেতে মিলল রক্তাক্ত মরদেহ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস ফাঁকির অভিযোগ, হাজিরা খাতায় নেই স্বাক্ষর

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

>> বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ গঠন: আহবায়ক এড.ইসমাইল ও সদস্য সচিব এড.পলাশ কান্তি নাগ

>> হাতিয়ায় ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

আপনি পড়ছেন : অর্থনীতি

কল্পনা আক্তার পাশে দাঁড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র!


নিজস্ব প্রতিবিদক

eshomoy.com || 2023-11-30 20:13:45
কল্পনা আক্তার পাশে দাঁড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র!

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, শ্রমিক অধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশের কল্পনা আক্তারের মতো শ্রমিক ও অধিকারকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পুরো যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।আর এই শ্রম অধিকার লঙ্ঘন হলে আসতে পারে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা।

অথচ শ্রমিক নেতারা বলছেন, কল্পনার নিজের শ্রমনীতিই তো বিতর্কমুক্ত নয়। আর পোশাক শিল্প মালিকরা তাকে তো সরাসরি দেশের অর্থনীতি ধংসের কারিগর বলে আখ্যা দিচ্ছেন। যদিও মার্কিন অর্থায়নে একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) চালানো কল্পনার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া মেনে নিলেই ঝুঁকিমুক্ত বাংলাদেশ!

আরও পড়ুন- বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর সিঙ্গাপুর-জুরিখ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন গত ১৬ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমরা বাংলাদেশের কল্পনা আক্তারের মতো শ্রমিক এবং অধিকারকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে চাই।'

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, কে এ কল্পনা আক্তার। কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াতে চায়। তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ২০০৬ সালের অক্টোবরের একটি সংবাদ, যা তোলপাড় করেছিল তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজার। বাংলাদেশি পোশাক কারখানা হারভেস্ট রিচের বিরুদ্ধে শিশুশ্রমের অভিযোগ তুলে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রচার করেছিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল-৪।

 তবে তলিয়ে দেখা দরকার - এ সংবাদের সত্যতা কতটুকু। এ বিষয়ে জানতে সময় সংবাদ কথা বলে হারভেস্ট রিচের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান কমন থ্রেডস লিমিটেডের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। বর্তমানে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সেক্রেটারি তিনি।

আরও পড়ুন- রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল

বিলস সেক্রেটারি বলেন, 'আমরা সে সময় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে বোঝার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা যে ছবিগুলো পাঠিয়েছিলেন, সেখানে আমরা একজনকেও চাইল্ড লেবার হিসেবে শনাক্ত করতে পারিনি।'

সেই সংবাদ প্রকাশের পর কী ঘটেছিল হারভেস্ট রিচের ভাগ্যে - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তো হারভেস্ট রিচের জন্য একটি বড় ধরনের বিপর্যয় হয়ে গেল। তারা তো খুবই ভালো কাজ করছিল।

নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় সরেজমিনে দেখা গেল, বিশাল পরিসরে সবুজ পরিবেশে গড়ে তোলা হারভেস্ট রিচের করুণ পরিণতির চিত্র। কিন্তু কাদের কারণে এমন পরিণতি হলো হারভেস্ট রিচের? ২০০৬ সালের ৭ নভেম্বরের একটি পেপার কাটিংয়ে দেখা যায়, ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল জাতীয় প্রেসক্লাবে। তবে সেখানে দায়ীদের বিদেশি অর্থপুষ্ট গোষ্ঠী হিসেবে তুলে ধরা হলেও কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

আরও পড়ুন- নাগরপুরে নৌকার মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন টিটু

ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম, সালাউদ্দিন স্বপন, এম দেলোয়ার হোসেন, মো. সেলিম রেজা,  শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার, কাজী মোহাম্মদ আলীও  এন এম জামান চৌধুরীসহ অনেকে। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন র্বতমান জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি।

এ বিষয়ে জানতে সময় সংবাদ কথা বলে সিরাজুল ইসলাম রনির সঙ্গে। তিনি বলেন,  'এটি তো আমাদের দায়িত্ব না। মানবিকতার বিষয় নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছি। জাতির কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তখনকার বিজিএমইএ (বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি) এটি তদন্ত করেছে; আমরা সঙ্গে ছিলাম।

শেষমেষ কিছুই বের হয়ে আসেনি। জিরো; কিছুই না। যেই শ্রমিকদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল, সেই শ্রমিকদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। তারা বলেছিল, আমাদের তো একটি মোবাইল ফোন দেয়া হয়েছিল। আমরা তো বিষয়টা বুঝিনি; আমাদের যা বলেছিল ফোনের বিনিময়ে, আমরা তাই বলেছি।'

প্রশ্ন জাগে, এ মোবাইল ফোনের লোভ দেখিয়েছিলেন কারা? যার উত্তরে সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, যারা এর প্রচার-প্রোপাগান্ডার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই এ মোবাইল ফোন দিয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদন সেই সময়কার অ্যাম্বাসেডর শমসের মোবিন চৌধুরীর কাছে জমা দেয়া হয়েছিল। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাদের নাম জানেন, তাদেরই একজনের নাম ওই সময় এসেছিল। তিনি এক সময় শ্রমিক ছিলেন। শ্রমিক নেত্রী ছিলেন। বিষয়টি বুঝতে হবে।

আরও পড়ুন- লেনদেন ও সূচকের উত্থানে শেষ হলো এ সপ্তাহের পুঁজিবাজার 

যে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম অধিকার লঙ্ঘন আর শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে ১২০ বছর ধরে পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস, সম্প্রতি সেই দেশটিই বৈশ্বিক শ্রমনীতি ঘোষণা করে অন্য দেশকে ভিসা ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছে।

সেখানে কীভাবে সেই শ্রমনীতি অনুসরণ করা হবে? এমন ব্যাখ্যায় মার্কিন প্রশাসন বেছে নিয়েছে বাংলাদেশের কল্পনা আক্তারকে। শ্রমিক নেতা রনি কি তাহলে এই কল্পনা আক্তারের কথাই বলছিলেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি কল্পনা আক্তার বলেন, ‘আপনাকে বাবুল ভাই হারভেস্ট রিচের বিষয়ে ‍উত্তর দিয়েছেন। আপনারা সেটিতেই সন্তুষ্ট থাকেন।’

আরও পড়ুন- বিএনপিকে ছাড়াই হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন!

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার বলেন, ' আমরা শিশুশ্রমিক নিয়ে কথা বলেছিলাম। ওই সময় যদি আমাদের দোষ পেতো, সরকার আমাদের ছাড়তো না বা মালিকপক্ষ কিংবা বিজিএমইএ আমাদের ছাড়তো না।'

কাদের যোগসাজশে একটি পোশাক কারখানা ধংসের মুখে পড়েছিল, তার তো ধারণা পাওয়া গেল। তবে কল্পনা আক্তার স্বীকার করেন শ্রমিকের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বের পোশাক শিল্পে এখন রোল মডেল। তার বক্তব্য, ‘কর্মপরিবেশে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন অনেক উন্নতি করেছে। অন্য দেশও বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে।’

কল্পনা আক্তারের আশ্বাস, মার্কিন প্রশাসনের চাওয়া মেনে নিলেই আর ভয় নেই বাংলাদেশের। তিনি বলেন, 'গভর্মেন্ট টু গভর্মেন্ট আলোচনা হয়েছে। আমি আসলে জানিও না সরকারের কাছে আমেরিকার সরকার কী বিষয়গুলো তুলে ধরেছে।

ওই বিষয়গুলো মিটমাট করে ফেললে আমাদের শ্রম অধিকারও উন্নয়ন হবে। শ্রমিকরা একটি ভালো জায়গায় থাকবে এবং এমন ধরনের নিষেধাজ্ঞার ভয় থাকবে বলে আমি মনে করি না।'

আরও পড়ুন- সিংড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

দেশের শ্রম অধিকারের বিষয়টি কি তাহলে এতই নাজুক যে, মানতে হবে মার্কিন শর্ত? কী বলছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, 'বাবুল আক্তার বা কল্পনা আক্তার কারা; এটি কিন্তু আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।

সরকার ও সবাই জানেন, কারা এখানে বিদেশের এজেন্ট হয়ে, বিদেশের টাকায় লালিত-পালিত হয়ে এদেশে বসে, এদেশের ক্ষতি করছে। কেন তারা নিয়োজিত হয়েছে এটি সরকার জানে। কারণ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এভাবে এগিয়ে যেতে দেয়া যাবে না; বাংলাদেশকে থামানোর জন্য তারা এদেশে নিয়োজিত এজেন্ট।'

মার্কিন অর্থায়নের প্রসঙ্গ আসতেই জানা গেল বাবুল ও কল্পনা আক্তার মিলে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি নামের একটি এনজিও চালান। যেখানে অর্থায়ন আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

আরও পড়ুন- বিএনপি নামক ‘কারাগারে’ বন্দী তাদের নেতারা: তথ্যমন্ত্রী

বাবুল আক্তার বলেন, ‘আমরা ইউএসএইডের সঙ্গে কাজ করি। তারা আমাদের সঙ্গে কাজ করে, আমরাও তাদের সাথে কাজ করি।’

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের গভীরতাও বুঝিয়ে দিলেন তারা। কল্পনা আক্তার বলেন, ২০১৪ সালে এসে বেশিরভাগ মামলাই শেষ হয়ে গেছে।

কল্পনা আক্তার আরও বলেন, ‘আমার কাছে কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই যে, আমি আপনাকে বলতে পারবো যে ইউএস অ্যাম্বাসি এটি করেছে। তবে জিএসপির যে শর্ত ছিল - সেখানে ছিল এ মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।’

আরও পড়ুন- চট্টগ্রামে সাংবাদিককের ওপর চড়াও সাংসদ মোস্তাফিজ

পোশাক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই বলছেন, মুখে শ্রমিক অধিকারের কথা বললেও, মূলত মার্কিন স্বার্থ নিয়ে কাজ করেন এ কল্পনা আক্তার। তিন দশক আগে ছিলেন পোশাক শ্রমিক। এখন এনজিও কর্তা হয়ে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছেন শ্রমিকদের আবেগকে। এক্ষেত্রে জলাঞ্জলি দিচ্ছেন দেশের স্বার্থ! 

 

ইসময়/এনআই/এমআরএম