সব সময় সব খানে


সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সব সময় সব খানে!
সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
**সদ্যপ্রাপ্ত

>> কালাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্ভোধন

>> মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ, আখক্ষেতে মিলল রক্তাক্ত মরদেহ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> সবুজ সরদারকে 'যুবদলের সাধারণ সম্পাদক' হিসেবে দেখতে চায় যুবসমাজ

>> নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস ফাঁকির অভিযোগ, হাজিরা খাতায় নেই স্বাক্ষর

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বাড়লো আরও ২ দিন

>> ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

>> বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় কমিটি’ গঠন: আহবায়ক এড.ইসমাইল ও সদস্য সচিব এড.পলাশ কান্তি নাগ

>> হাতিয়ায় ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

আপনি পড়ছেন : নোয়াখালী

হাতিয়া কমিউনিটি কলেজ ও প্রিন্সিপাল জনাব মামুনুর রশীদ


আরিফুল ইসলাম ফারহান।

eshomoy.com || 2024-10-14 3:00
হাতিয়া কমিউনিটি কলেজ ও  প্রিন্সিপাল জনাব মামুনুর রশীদ

হাতিয়া কমিউনিটি কলেজ

হাতিয়ার সর্বদক্ষিণে জাহাজমারা ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে প্রায় ৪লক্ষ লোকের বসবাস। কিন্তু জাহাজমারা ইউনিয়ন এ হাতিয়ার শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আমেরিকা প্রবাসী জনাব প্রকৌশলী আমিরুল মোমিন বাবলু সাহেব  হাতিয়ার দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের তথা গরীব-দুঃখীদের ছেলে মেয়েদের উচ্চ  শিক্ষা দেওয়ার জন্য জাহাজমারা ইউনিয়নে একটি কলেজ স্পাপন করেন যার নাম হাতিয়া কমিউনিটি কলেজ। এ কলেজের প্রথমদিকে ১০০% পাশের হার থাকলেও সময়ের বিবর্তনে তা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।।  আমিরুল মোমিন বাবলু সাহেব বিএনপি করায় তৎকালীন সময়ে সবাই  ওনাকে ভিন্ন চোখে দেখতো।


২০০৮ সালের পর যখন আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসে তখন থেকে এ কলেজের অবস্থা আরোও খারাপ হতে শুরু করে। হাতিয়ার তৎকালীন  এমপি প্রকৌশলী ফজলুল আজিম সাহেব এ কলেজের হাল ধরলেও সমাজ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে তখন এ কলেজকে এমপিও ভুক্তি করা সম্ভব হয়নি। এ কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল সারোয়ার হোসেনের আমলে কলেজের শিক্ষার মান ১০০% থাকলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে তা দিন দিন বিলীন হয়ে গেলো। সাবেক প্রিন্সিপাল সারোয়ার হোসেনের পরে প্রিন্সিপাল জোবায়ের সাহেব এ কলেজের হাল ধরলে তার ব্যাকরাউন্ড এর কারনে তিনি প্রশ্নের সম্মুখীন। 


ওনার বিরুদ্ধে রয়েছে কলেজের অনিয়ম ও আত্মসাৎ এর অভিযোগ। তথ্য সুত্রে জানা যায় জোবায়ের সাহেব এর প্রিন্সিপাল এর যোগ্যতা না থাকলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে এই কলেজের দায়িত্ব নেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর কলেজের অবস্থা আরোও খারাপ হতে শুরু করে।  জোবায়ের সাহেবের সাথে যুক্ত ছিলেন বিএম এর ( কারিগরি শিক্ষা বোর্ড)  প্রিন্সিপাল ফাহিম সাহেব। ওনারা ২ জন উক্ত কলেজের তৎকালীন ফান্ড এর টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাক্তিগত কাজে ঢাকা গেলেও তা কলেজের খাতে দেখানো, ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়, সহ কলেজের সকল প্রকার অনিয়ম ওনাদের আমলে ছিলো। এসকল অন্যায় অনিয়ম এলাকার শিক্ষানুরাগী জনতা জানতে পারলে প্রিন্সিপাল জোবায়ের এবং ফাহিম সাহেব কলেজের অধ্যক্ষ হতে ইস্তফা দেন।


দায়িত্ব নেন একজন শিক্ষানুরাগী ছাত্র ছাত্রী গড়ার কারিগর জনাব প্রিন্সিপাল  মামুনুর রশীদ সাহেব। তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি বিচক্ষণতার সহিত এ কলেজের শিক্ষার মান সহ কলেজের শিক্ষা ব্যাবস্হার মান উন্নয়নে ১০০% ভুমিকা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।  সততা ও ন্যায় নীতি নিয়ে অনেক হাঙ্গামার সাথে লড়াই করে তিনি একলেজকে পড়ে যাওয়া থেকে ৮০ ভাগ উপরে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছেন। জনাব মামুনুর রশীদ সাহেব এ কলেজের শিক্ষার বর্তমান মান উন্নয়নে যা করনীয় তা বিচক্ষণতার সহিত করে যাচ্ছেন।  তিনি এ কলেজকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মুক্ত ও ছাত্র ছাত্রীরা যেন পড়ালেখায় মন দেয় সেজন্য কলেজে উপবৃত্তি, সাপ্তাহিক বিনোদন, ছাত্র ছাত্রীদেরকে সহজে ইংরেজি শিখার কৌশল, এবং নতুন নতুন প্রশ্ন তৈরি করে ছাত্র ছাত্রীদের কে শিক্ষার প্রতি আকর্ষণীয় করে তুলেন যা পূর্বে কোন অধ্যক্ষ করে নাই।  বর্তমানে কলেজের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ, তারপর ও অধ্যক্ষ মামুন সাহেব কোন শিক্ষককে বুঝতে দিচ্ছে না তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন সকল খরচ। তিনি কলেজের যেসকল গরীব ছাত্র ছাত্রীরা অর্থের অভাবে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারেনা তাদেরকে বিনা মূল্য পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নিচ্ছেন।


এছাড়াও প্রত্যক শিক্ষক দেরকে মাসে ৩০০ টাকা মোবাইল খরচ দেওয়া হয় ক্লাস থেকে যেসকল ছাত্র ছাত্রী ঐদিন কলেজে আসবেনা তাদের গার্ডিয়ানদের সরাসরি কল দিয়ে খোঁজখবর জানানোর জন্য।  কলেজের বর্তমানে যে সকল শিক্ষক রয়েছেন সকল শিক্ষক গন মেধাবী এবং বিচক্ষণতার সহিত ক্লাসে পাঠদান করে যাচ্ছেন।  ই সময় সরাসরি কলেজ পরিদর্শনে গেলে জানা যায় - কলেজের  বর্তমানে প্রতিমাসে আয়ের চেয়ে ব্যায়ের হার বেশি।  প্রতি মাসে কলেজে শিক্ষক দের সম্মানী ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা খরচ হয়। আওয়ামী শাসনামলে অনেক কষ্ট করে এ প্রতিষ্ঠানটি চলে আসলেও বর্তমানে আর্থিকভাবে এ কলেজটি অনেক পিছনে।  কলেজের সিনিয়র শিক্ষক জনাব শাহাবুদ্দিন স্যার বলেন আমরা সম্মানীর(বেতন) দিকে তাকায় না আমরা চাই এ অঞ্চলের শিক্ষার মান যেন বৃদ্ধি পায়।


আরেকজন সহকারী শিক্ষক জনাব ডাঃ নাজিম স্যার বলেন - আমরা এ কলেজের সাথে আছি থাকবো আমরা আমাদের বেতনের কথা চিন্তা করিনা - আমরা চাই এ কলেজের শিক্ষার মান ধরে রাখতে। পরিশেষে অধ্যক্ষ জনাব মামুনুর রশীদ স্যার বলেন - আমি চেষ্টা করতেছি সকল শিক্ষকদের অন্তত একটা সম্মানী দিতে - যেহেতু আমাদের কলেজের কোন ডোনার নেই - পূর্বে এমপিও ভুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে তা বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।বর্তমানে কলেজের কিছু কাজ করা প্রয়োজন - পুরনো ভবনটি সংস্কার করা যার ব্যায় হবে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা, কলেজের যাতায়াতের রাস্তা উন্নয়ন ও মাঠ ভরাট করা যেন ছাত্র ছাত্রীরা খেলাধুলা করতে পারে। কলেজের শিক্ষকদের একটা নূন্যতম সম্মানী প্রদান করা, কলেজটিকে এমপিও ভুক্তি করা।  এ কলেজে  মামুন স্যার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তা হলোঃ 


সিলেবাস ভিত্তিক পাঠদান,সেমিস্টার ভিত্তিক পাঠদান - বছরের শুরুতে জানতে পারা কবে থেকে শুরু হবে কোন সেমিস্টার।  বছরের শুরুতে ছুটির লিফলেট প্রদান। প্রত্যেক ছাত্র ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি প্রদান।  মেধাবীদের বিনা মূল্য বই ও ড্রেস প্রদান।দূরের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য বাসের ব্যাবস্হা, হলের ব্যাবস্হা।  কোন স্টুডেন্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক সুচিকিৎসা প্রদান সহ অনেক উন্নয়ন বর্তমানে চলমান।।