দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোচিত উপবালা রায় হত্যার ১ বছর পেরিয়ে গেলেও ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি আজও। এদিকে থানা পুলিশের হাত ঘুরে তদন্তের ভার পড়েছে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তে। তাতেও কোনো অগ্রগতি নেই মামলার। ফলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
উপবালা রায়কে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে উপজেলায় বেশ কয়েকবার মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি ওই এলাকার হিন্দু ধর্মীয় সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা বর্জন করেও প্রতিবাদ করেছে তারা। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। তদন্ত নিয়ে হতাশ হলেও এখনো বিচারের আশা ছাড়েননি নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন- ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা !

মায়ের প্রসঙ্গে নির্বাক বিপাশার হয়ে কথা বলেন দাদু ও দিদিমা। যেকোনো মূল্যে এই হত্যার বিচার চান তারা। সর্বস্ব দিয়ে বিচারের জন্য লড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে তারা বলেন,এখন মনে হয় এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন না হওয়ার পেছনে সদিচ্ছার বড় অভাব রয়েছে। আমাদের ধারণা,এর সঙ্গে এমন কেউ জড়িত, যাদের সামনে আনা যাচ্ছে না। তাই এত দিনেও কুলকিনারা হলো না।
আরও পড়ুন- কেশবপুরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ১ আহত ২
তারা আরও বলেন, এতদিন যাবত আসামিকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় না এনে, আমাদেরকে দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। প্রশাসনের বিবেক এবং আইনের বিবেক বলতে কিছুই নেই। প্রশাসন তো আমাদের পাশে নাই, আমরা নিরীহ হয়ে গেছি, আমাদের জীবনে প্রথম এই এত বড় একটা দূর্ঘটনা আমরা কি এই হত্যার বিচার কি কোন দিনও পাবো না?

ঘটনার পর নিহতের স্বামী নিশান চন্দ্র রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের নামে খানসামা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এ বিষয়ে নিহতের স্বামী নিশান রায় বলেন,রহস্য উন্মোচন ও জড়িতদের আইনের আওতায় না আনায় চরম হতাশায় ভুগছি। এক বছর হয়ে গেলেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। স্ত্রী হত্যার ন্যায় বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আরও পড়ুন- মানুষ সকালে আ. লীগ বিকালে বিএনপি : মোমিন মেহেদী
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ধীমান চন্দ্র দাস বলেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের স্বদিচ্ছা কামনা করছি, যেন সংখ্যালঘু পরিবারটি এ হত্যার সঠিক বিচার পায়।

উপবালার বিষয়ে কথা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দিনাজপুর পিবিআই’র উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউনুল হক বলেন, মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। আমার সিনিয়র কর্মকর্তাগণ এ বিষয়ে অবগত আছেন। তাদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন দিক থেকে সঠিক তথ্য উদঘাটন করার চেষ্টা করছি। আমরা চাই তদন্তে যেন একজন নিরপরাধ মানুষেরও নাম না আসে। কেবল হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ধরা পড়ুক। তাই তদন্তে একটু বিলম্ব হচ্ছে।
আরও পড়ুন- নির্মাণাধীন কালভার্ট ভেঙে ৫ জনের মৃত্যু
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৯ জুলাই উপজেলার টংগুয়া কুমারপাড়ার বাবার বাড়ি থেকে সন্ধ্যায় উপবালা রায় তার মেয়েসহ স্বামীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরে পাশের ধানক্ষেত থেকে নিহত উপবালার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মায়ের মরদেহের কাছেই আহত অবস্থায় পাওয়া যায় ১০ বছরের মেয়ে বিপাশাকে।

আরও পড়ুন- শেরপুরে কবজ উদ্দিন হত্যার প্রধান আসামীসহ গ্রেপ্তার-৩
ই-সময়/আর.এম/এমআরএম